শিরোনাম

একটি নিরীহ দাবির কারণে মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে রিমান্ডে নেয়ার ঘটনা দেশবাসীকে হতবাক করেছে

বাংলাদেশের বিশিষ্ট মানবাধিকারনেত্রী ও সাবেক তত্ত্বাবায়ক সরকারের উপদেষ্টা  সুলতানা কামাল বলেছেন, রাস্তায় বের হলে মানুষ যেন নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন- এমন একটি নিরীহ দাবি করার কারণে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে রিমান্ডে নেয়ার মতো ঘটনা দেশবাসীকে হতবাক করেছে।

চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে থাকা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের সুলতানা কামাল বলেন, ‘সমস্ত ক্ষেত্রে শোনানো হচ্ছে, সরকার গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখছে, তাদের উন্নয়নের কোনো তুলনা নেই।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘এমন উন্নয়ন হচ্ছে যে রাস্তায় প্রতিদিন ১০ জনের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। উন্নয়নের নানা ক্ষেত্র আছে কিন্তু সব জায়গায় মানুষের সব সময় সম্পৃক্ত হতে হয় না। মানুষকে প্রতিদিন পথে নামতে হয়, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়। এটি মৌলিক অগ্রাধিকারের জায়গা। রাষ্ট্র যদি সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে না পারে, তবে আমরা কথা বলব না? আমরা সোচ্চার হব না?’ তিনি মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে ‘মানবাধিকারকর্মী’ হিসেবে উপস্থাপন করে অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, মোজাম্মেল হক চৌধুরী যেসব তথ্য উপস্থাপন করতেন, তাতে সড়কের নৈরাজ্য প্রায়ই উন্মোচিত হতো। কয়েক বছর ধরে তিনি লেগে থেকে যে কাজ করে যাচ্ছিলেন, তিনি তো প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু এ বিষয়গুলোও সরকার সহ্য করতে পারছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালক ও সমিতির সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘চার বছর ধরে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আমাদের প্রতিবেদনগুলো সরকারের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়েছে। সেসব তথ্য পাওয়ার পর তারা কোনো কিছুদোষরে খুঁজে পায়নি। কিন্তু সরকারের কেউ কেউ বলেছেন, এটি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

লিখিত বক্তবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামসুদ্দীন চৌধুরী দাবি করেন, নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য গুটিকতক অপশক্তি দেশের ১৬ কোটি মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী বিজু আক্তার চৌধুরী শিশুকন্যা ফাতেমা তুজ জহুরাকে কোলে করে হাজির হন। সংবাদ সম্মেলনে এসে শুধু কাঁদলেন, দুই লাইনের বেশি বলতে পারলেন না।

বিজু আক্তার বলেন, ‘আমি এখন কোনো কথা বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই। শুধু প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার বিনীত অনুরোধ যেন আমার স্বামীকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language