শিরোনাম

জনগণের অর্থ কোনো ব্যক্তির নয়: দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে কেবল সরকারি অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যেই অনেক ক্রয় প্রস্তাবে উচ্চ দর প্রাক্কলন করেন বলে শোনা যাচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতেই হবে। জনগণের অর্থ কোনো ব্যক্তির নয়। কঠোর নজরদারি, নিখুঁত তদন্ত সর্বোপরি প্রসিকিউশনের মাধ্যমে এ সব দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে ‘ট্রেনিং অন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এন্ড প্রাকটিসেস ফর এসিসি অফিসিয়াল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

অন্যদিকে দুদকের কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেছেন, যে বা যারা সজ্ঞানে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে, তাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। দুর্নীতিপরায়ণরা যেভাবে তাদের অপরাধের ধরন পরিবর্তন করছে-দুদককেও তাদের ধরার জন্য নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগ করতে হবে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দেশের ক্রয় দুর্নীতিই সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। প্রায়শই পত্র-পত্রিকায় ক্রয় দুর্নীতির খবর পাওয়া যায়। যা দেশের মানুষের মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করে। তাই এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লব্ধ জ্ঞান অবশ্যই ক্রয় দুর্নীতির অনুসন্ধান বা তদন্তে প্রয়োগ করতে হবে। আর যদি এটার প্রয়োগ না ঘটে তাহলে জনগণের অর্থে পরিচালিত এ সব প্রশিক্ষণ ভিত্তিহীন হয়ে যায়।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। অভিযোগের তদন্তে এ প্রশিক্ষণের সঠিক প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি-আজও বলেছি, ক্রয় সংক্রান্ত অনুসন্ধান বা তদন্তে আপনাদের না বুঝার কারণে যেন একটি লোকও হয়রানির শিকার না হন।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনাদের অঙ্গীকার হবে নিজেরা দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। আর এ জন্যই প্রয়োজন মানসম্মত তদন্ত, মানসম্মত অভিযোগপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন। সার্বিকভাবে দুদকের মামলায় শতভাগ সাজা নিশ্চিত করা উদ্দেশ্যেই সবাইকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের মহাপরিচালক মো. আলী নূর, দুদকের প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল, দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা, মো. মঞ্জু।

অন্যদিকে, দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক টিমের প্রতিবেদনের মানোন্নয়নে টিমের দলনেতা, বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও পরিচালকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।

এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, জনশ্রুতি রয়েছে এমন ২৫টি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে তা কিভাবে দূর করা যায় এমন সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন প্রণয়নের জন্যই কমিশন ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করেছিল। ইতিমধ্যেই ১৫টি প্রতিবেদন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে। কমিশন প্রত্যাশা করে প্রাতিষ্ঠানিক টিমের এ সব প্রতিবেদন হতে হবে তথ্য-উপাত্ত, রেফারেন্স এবং কেসস্ট্যাডির সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন। এ সব প্রতিবেদন যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে বাকি প্রতিবেদনগুলো প্রণয়ন করতে হবে। তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিয়ম-কানুন, বার্ষিক প্রতিবেদন, অডিট রিপোর্ট, অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা, গণমাধ্যমের তথ্য, কমিশনের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে।

দুদক কমিশনার বলেন, দুর্নীতির ব্যাপকতা রয়েছে। এর ধরনও ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। দুর্নীতির নানা চিত্র আমাদের কাছে পরিষ্কার হচ্ছে। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবেন না। আজ অথবা কাল দুর্নীতিবাজদের ধরা পড়তেই হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক মহাপরিচাল (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান, পরিচালক নাসিম আনোয়ার, সৈয়দ ইকবাল হোসেন, মঞ্জুর মোরশেদ প্রমুখ।


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language