শিরোনাম

ট্রেড লাইসেন্স আর নয়: জাল টিআইএনে

জাল টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে। এজন্য প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে আগ্রহী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শুধু তাই নয়, রিটার্ন জমার সংখ্যা বাড়াতে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের সময় টিআইএনের পরিবর্তে রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বাধ্যতামূলক করতে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অনলাইন সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের পক্ষেও ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন, পণ্য সরবরাহ বা চুক্তি বাস্তবায়নে টিআইএন যাচাই সহজ হবে। অনলাইনে সংযোগ স্থাপিত হলে করদাতাবান্ধব সংস্কৃতির বিকাশ, করনেট সম্প্রসারণ, কর পরিপালন বৃদ্ধি, সরকারের কাক্সিক্ষত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও সর্বোপরি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র জানায়, আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স নিতে টিআইএন লাগে। কিন্তু বিদ্যমান নিয়মে সিটি করপোরেশন কাগজপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া সেই টিআইএন আসল নাকি নকল তা যাচাই করে না। ফলে জাল টিআইএনে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দুই সংস্থার মধ্যে অনলাইন সংযোগ স্থাপন হলে উভয়পক্ষই ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনের সঠিকতা যাচাই করতে পারবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে উত্তর সিটি করপোরেশনকেও চিঠি দেওয়া হবে।

সূত্র আরও জানায়, আয়কর আইনে সব ট্রেড লাইসেন্সধারীর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা আছে। কিন্তু দেশে যত লাইসেন্স আছে তত রিটার্ন জমা পড়ে না। মূলত আয়কর বিভাগের সক্ষমতার অভাবেই এটি হচ্ছে। এক্ষেত্রে রিটার্নের সংখ্যা বাড়াতে সিটি করপোরেশন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। সিটি করপোরেশন নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়নের ক্ষেত্রে টিআইএনের পরিবর্তে রিটার্ন জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বাধ্যতামূলক করলে রিটার্ন জমার সংখ্যা বহুলাংশে বাড়বে। পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

এনবিআরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের টিআইএনধারী রয়েছে ৬১ লাখের বেশি। অথচ ২০২১-২২ করবর্ষে রিটার্ন জমা দিয়েছে ২৪ লাখ করদাতা। অর্থাৎ টিআইএনধারীর ৬১ শতাংশ রিটার্ন জমা দেয়নি। অথচ মোটা দাগে করযোগ্য আয় রয়েছে- এমন সব টিআইএনধারীর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ৩১ ধরনের কাজের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ১২ ডিজিটের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিতে হবে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, শুধু রিটার্ন জমা বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেই হবে না। এর সঙ্গে করদাতা রিটার্নে প্রকৃত তথ্য দিচ্ছে কিনা তাও খুঁজে বের করতে হবে। এটি করা সম্ভব সরকারি সব সংস্থা থেকে তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে। এক্ষেত্রে ‘ইনফরমেশন ইজ মানি’। কোনো করদাতা যদি জানেন এনবিআর তার সম্পদ বা আয়ের ৮০ শতাংশও তথ্য জানে, তাহলে কর আদায় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে এলাকাভেদে ট্রেড লাইসেন্সে নবায়নকালে নির্দিষ্ট হারে উৎসে কর দিতে হয়। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩ হাজার টাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশনে ২ হাজার টাকা, জেলা শহরে ১ হাজার টাকা ও পৌরসভায় ৫০০ টাকা উৎসে কর দিতে হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, জাল টিআইএনে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই সিটি করপোরেশন ও এনবিআরের মধ্যে ইন্ট্রিগেশন জরুরি। তবে অটোমেশন হতে হবে পূর্ণাঙ্গ; যাতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি হতে না হয়। তিনি আরও বলেন, সব ধরনের ব্যবসা শুরুর আগে ট্রেড লাইসেন্স করা লাগে, সেটা ছোট হোক বা বড়। এই লাইসেন্স নেওয়ার সময় বা নবায়নকালে আগাম উৎসে কর দিতে হচ্ছে। পক্ষান্তরে সরকার ব্যক্তি-শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে। অনেক ছোট ব্যবসায়ী আছে, যাদের নানা প্রয়োজনে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়েছে। কিন্তু তাদের বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা কম। তাদের রিটার্ন জমায় ছাড় দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার।


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language