Templates by BIGtheme NET
শিরোনাম

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিলের দাবিতে সোমবার প্রতীকী অনশন

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম: স্টাফ করসপন্ডেন্ট:

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালোধারা বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ফ্যাসীবাদী সরকার গণমাধ্যমের বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া এবং সরকারের অন্যায়ের সমালোচকদের আর বিরোধী মতের কণ্ঠরোধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী নির্বাচনকে প্রভাবিত করার কাজেও ব্যবহার হতে পারে এ আইন। এ আইন থাকলে গণতন্ত্র, স্বাধীন মত প্রকাশ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সবই বিপন্ন হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। নেতৃবৃন্দ এ কালাকানুন বাতিলের দাবিতে আগামী ১ অক্টোবর সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন -ডিইউজে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন — বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আব্দুস সহিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম,জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বিএফইউজে সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল আমিন রোকন, সহ-সভাপতি মোদাব্বের হোসেন, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আহমেদ মতিউর রহমান, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, নির্বাহী সদস্য এবিএম সাদ বিন বারী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী, সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বাংলাদেশ ফটো জার্ণালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি একেএম মহসীন, ডিইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, ডিইউজে’র বাসস ইউনিট প্রধান আবুল কালাম মানিক, ডিইউজে’র জনকল্যাণ সম্পাদক খন্দকার আলমগীর। এছাড়া অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক নেতা জিয়াউল কবির সুমন, মামুন স্ট্যালিন, সৈয়দ আলী আসফার, মাসুদা সুলতানা, আবুল কালাম, নির্বাহী এইচ এম আলামিন, ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- ডিইউজে’র দপ্তর সম্পাদক শাহজাহান সাজু।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, আমরা বারবার বলেছি এ ধরণের জঘণ্য আইন করবেন না। তারপরও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে এ ধরণের কালো আইন করা হয়েছে। এ আইন গণবিরোধী ও সংবিধান পরিপন্থি। এ আইনে মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হবে। এ সরকার একের পর এক মিডিয়া বন্ধ করেছে। সাংবাদিকদের মামলা-হামলা দিয়ে নির্যাতন করেছে। এখন নতুন এ আইনের মাধ্যমে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে্র মানুষ এ আইন মানে না, মানবেও না। দেশে্র মানুষ এ আইন বাস্তবায়ন হতে দেবে না। এ আইন বাতিলের জন্য আগামী ১ অক্টোবর সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে। আমি সকলকে সেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহবান জানাচ্ছি। যতদিন এ আইন বাতিল না করা হবে ততদিন আমাদের এ আন্দোলন চলবে এবং চলবে।

শওকত মাহমুদ বলেন, তথ্যমন্ত্রী চিঠি দিয়ে সম্পাদক পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমি বলতে চাই তথ্যমন্ত্রীর চিঠি সংসদের চেয়ে বড় নয়। আপনার সাহস থাকলে সংসদে চিঠি দিয়ে এ আইন সংশোধন করতে বলুন। আমরা সাংবাদিক সমাজ এ আইন মানি না, মানবোও না। দেশের জনগণও এ আইন মানে না। এ আইন থেকে শুধুমাত্র সাংবাদিকরা রেহাই পেলে চলবে না। দেশের জনগণকেও এ আইন থেকে রক্ষা করতে হবে। এ আইনে পুলিশ সন্দেহ করে যেকোনো সময় যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে কেউ গ্রেফতার হলেওে পাল্টা তাদের বিরুদ্ধে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না। তিনি আরো বলেন, এ আইনে সৃষ্টিকর্তাকে অবমাননা করলে ৫ বছরের জেল আর সৃষ্ট মানুষকে অবমাননা করলে ১০ বছরের জেল। এখানে সৃষ্টিকর্তার চেয়ে তার সৃষ্টিকে বড় করা হয়েছে। এমন আইন আমরা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেব না। আমাদের আন্দোলন চলছে এবং চলবেই।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দেশে মুক্ত মত প্রকাশের ওপর একটি বড় আঘাত। ব্যাপক সমালোচিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) পরিবর্তে সেখানে বসানো হয়েছে এই আইন। এতে রয়েছে আগের ওই আইনের সবচেয়ে সমস্যাযুক্ত বেশির ভাগ বিধান এবং রয়েছে শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশকে ক্রিমিনালাইজ করার অধিক বিধান। নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হলো নির্যাতনের একটি অস্ত্র এবং বাংলাদেশ মুক্ত মত প্রকাশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যেসব আইন মানতে বাধ্য তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে কমপক্ষে ৫টি বিধান আছে, যা দিয়ে কথা বলা বা মত প্রকাশকে ক্রিমিনালাইজ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এই আইনটি সরকারের অপকর্মের সমালোচকদের কণ্ঠকে দমন করার জন্য ব্যাপক অর্থে একটি লাইসেন্স।

শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অতীতেও এই ফ্যাসিবাদী সরকারের কোনো কালো আইনের বিরুদ্ধে কোনো আপস করিনি, এখনো করবো না। এমনকি ভবিষ্যতেও করবো না। বর্তমানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে যে কালো আইন পাশ করেছে তা যতদিন বাতিল না করা হবে ততদিন আমারা রাজপথে আছি এবং থাকবো। গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেই আমরা ঘরে ফিরবো।


Print pagePDF pageEmail page
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*