শিরোনাম

নিত্যপণ্যে অসহনীয় উত্তাপ

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০,

করোনার মধ্যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যখন কমেছে, সেই সময় হঠাৎ লাগামহীন হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের দাম। এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছে ভোক্তাসাধারণের।

অস্বাভাবিক এই দাম বৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বারবার সেই পুরনো সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ওই সিন্ডিকেট সদস্যদের চিহ্নিত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ফলে নানা ইস্যুতে বছরে কয়েকবার নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে তারা। আর সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অল্প সময়ে হাতিয়ে নেয় কয়েক হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পেঁয়াজের মূল্যে কারসাজির কারণে গত বছর অন্তত ১৫টি সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করেছিল সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। এর মধ্যে এমন তথ্যও পাওয়া গিয়েছিল, একটি পক্ষ বেশি দামে বাংলাদেশে বসে পণ্য আমদানি করছে। আর যেসব দেশ থেকে আমদানি হচ্ছে, ওই সিন্ডিকেটই ওই দেশে বসে পণ্য রফতানি করছে বাংলাদেশে। অর্থাৎ যিনি আমদানিকারক, তিনিই রফতানিকারক। তবে এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে এবারও তারা দাম বাড়িয়ে অস্বাভাবিক মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।

তবে এই দাম বাড়ানোর পেছনে সেই আগের অজুহাত দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, তিন কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে- ভারতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার কারণে পণ্যের উৎপাদন কমেছে। ইন্দো প্রদেশে পেঁয়াজের মোকামে শ্রমিকদের ধর্মঘট এবং মাওয়া ঘাটে ফেরি পারাপার বন্ধের কারণে পণ্য ঢাকায় আসতে পারছে না। ফলে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, কিছু কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ প্রকৃতির বিরূপ প্রভাব। তিনি বলেন, বন্যায় অনেক জায়গার শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। কোথাও কোথাও ধানও নষ্ট হয়েছে। এ কারণে পণ্যের সরবরাহ কিছুটা কম। বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর আমাদের কারও হাত নেই। তবে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language