শিরোনাম

প্রাণঘাতি করোনা নয়: বান্দরবানের স্বল্প উপার্জনকারী ঋণ প্রদানকারী সংস্থার শোষণে জর্জরিত

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত সারা দেশের মানুষ। এ সঙ্কটময় মুহূর্তে বান্দরবানে নিম্ন আয়ের মানুষ করোনাভাইরাস থেকেও বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এনজিওর কিস্তির টাকা নিয়ে। কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য সকাল-সন্ধ্যা এসব খেটে খাওয়া মানুষদের বাড়ীতে এনজিও কর্মীরা হানা দিচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলায় গ্রামীন, আশা, শক্তি, আইডিএফ, কারিতাস, পদক্ষেপ,ব্রাক, সোস্যাল, গ্রাউস, ইসলামী ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋন বিতরণ করে। অভিযোগ রয়েছে প্রত্যেক এনজিওই কিস্তির টাকার জন্য সাধারণ মানুষের উপর চাপাচাপি করছে।
বান্দরবান পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, করোনাভাইরাস আতঙ্কে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেনা অধিকাংশ মানুষ, শহরের রাস্তা-ঘাট প্রায় ফাঁকা। এতে বিপাকে পড়েছে শ্রমিক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
পৌর শহরের রিকশাচালক দাদপুর গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ খরকুদ্দিন মিয়া জানান, তার পরিবারে ৮জন সদস্য। তার প্রতি সপ্তাহে এনজিও’র কিস্তি দিতে হয় ১৪শ টাকা। বর্তমানে শহরের মানুষ কমে গেছে এখন আর তেমন আয় হচ্ছেনা। কিভাবে সংসার চলবে আর এনজিও কিস্তি কিভাবে পরিশোধ করবে, এই নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তিনি। একই কথা বলেন একই এলাকার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম। তার বক্তব্য, তিনি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে রিকশা কিনেছেন। বর্তমানে তার আয় না থাকায় এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মেম্বার পাড়ার শাহিনুর রহমান জানান, কোরোনা আতঙ্কে এখন কেউ তাকে বাড়ীতে কাজে দিচ্ছেনা। ফলে তার মজুরী বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মাঝে তাকে প্রতি সপ্তাহে তাকে ১১শ টাকা কিস্তি দিতে হয়। তিনি কিভাবে এই কিস্তি পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তায় আছে তিনি। একই অবস্থা ক্ষুদ্র চা-ষ্টল ও পান-সিগারেটের দোকান ও ফলের দোকানগুলোতেও। শহরে জনসমাগম কমে যাওয়ায়, এই সকল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খাবারে দোকান হোটেলের বেচা-কেনা কমে গেছে। এতে শ্রমিক ও দিন মজুরদের ন্যায় তারাও বিপাকে পড়েছেন। পৌর শহরের বাজার মোড়ের চা বিক্রেতা দুলু মিয়া বলেন, সারাদিন যেখানে দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেচা-কেনা হত, সেখানে পাঁচশ টাকাও বেচা-কেনা হচ্ছেনা। একই কথা বলেন ৩ নং গলিন হোটেল ব্যবসায়ী সুলতান হোসেন, বর্তমানে বেচা-কেনা একেবারে কমে গেছে, এতে হোটেলের ভাড়া কর্মচারীদের বেতন দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, এর উপর রয়েছে ঋনের কিস্তি।
ক্ষুদ্র ঋন গ্রহীতা সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ব্যবসায়ীদের ব্যাংকের কিস্তি স্থগিত করা হলেও, গরিবের এনজিওর কিস্তি স্থগীত করা হয়নি। তাই তিনি এনজিওর কিস্তি বন্ধ করার আহবান জানান।
এবিষয়ে গ্রামীন, আশা, শক্তি, আইডিএফের শাখার ম্যানেজারদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন কিস্তি আদায় বন্ধে আমাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি তাই আমরা যথারীতি মাঠে কাজ করছি।
এদিকে কারোনা প্রাদুর্ভাব না কাটা পর্যন্ত এনজিওর কিস্তি বন্ধ রাখার জন্য সরকারের উর্দ্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language