শিরোনাম

বান্দরবানে ক্ষুধার্থ রোগীকে খাবার দেওয়ায় মুহিনের ৩মাস জেল

বান্দরবানে ক্ষুধার্থ রোগীকে খাবার দেওয়ায় মুহিনের ৩মাস জেলঃ ডাক্তার-নার্সদের দায়িত্ব অবহেলা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নিরহ যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগ

বান্দরবান সদর হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগী পালিয়ে যাওয়ায় ডাক্তার-নার্সরা তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য অবহেলার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মুহিন নামে এক নিরহ যুবকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। সে যুবকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৩মানসের জেল ও বিশ হাজার টাকা অর্থ দন্ড দেয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায় বান্দরবান সদর হাসপাতালে। হাসপাতাল সুত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা আফছার উদ্দিন চৌধুরী নামে এক বিকাশ কর্মচারীকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখেন স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার সন্ধ্যায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা ওই ব্যক্তির অনুরোধে স্থানীয় যুবক মুহিন হাসপাতালে তার জন্য ইফতারি নিয়ে যায় এবং দেয়ার পর সে আবার বাড়িতে ফিরে যান। ইফতারের পর কোয়ারেন্টাইনে থাকা আফসার উদ্দিন চৌধুরী উধাও হয়ে যায়। তাকে অনেক খোঁজাখুজির পর কোন সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি হাসপাতাল কতৃপক্ষ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সরকারী কাজে বাঁধা প্রদান ও কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অপরাধে মুহিনকে ৩মাস কারাদন্ড ও বিশ হাজার টাকা অর্থ দন্ড দেয়া হয়।
এব্যপারে মুহিন জানান, কোয়ারেন্টাইনে থাকা আফসার উদ্দিন চৌধুরী তার একই অফিসে চাকুরী করেন। তিনি হাসপাতালের এক আয়ার মাধ্যমে তার অফিস কলিকের কাছে ইফতারি পাঠিয়েছিলেন। তিনি ইফতারি নিয়ে গিয়ে তার কলিকের সাথে কথা বলা তো দুরের কথা দেখাও করেননি। অহেতুক এঘটনায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন।
বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তৌহিদুর রহমান রাশেদ চৌধুরী জানান, মুহিন ইফতার নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছে এটি ঠিক। কিন্তু তিনি সরাসরি উক্ত রোগীর সাথে দেখা করেনি এবং ইফতারগুলো ডিউটিরত নার্সের মাধ্যমে আয়ের হাত দিয়ে দ্বিতীয় তলা আইসোলোশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। এরপরে তিনি বাসায় চলে আসেন। তিনি বলেন, তালাবদ্ধ কোয়ারেন্টাইনে রুম রোগী পালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্স, কর্মচারী জানানে না। আর রোগী পালিয়েছে রাত ৮টার দিকে, কিন্তু মুহিনকে বাসা থেকে রাত ১০টা বাজে ডেকে এনে আটকিয়ে তার কোন প্রকার বক্তব্য না শুনে সাজা দেয়ার বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, আমি দায়িত্বরত ডাক্তার প্রস্তুষ পাল ত্রিপুরাকে এবিষয়ে প্রশ্ন করলে সে আমাকে সদাত্তর দিতে পারেননি। রাশেদ বলেন, আমি মনে করি তাদের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মুহিন নামে এক নিরহ যুবকে ফাঁসানো হয়েছে।
এব্যপারে বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা. অংশৈপ্রু মারমা জানান, হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিকে মুহিন নামে স্থানীয় এক যুবক ইফতারী সরবরাহ করে ছিল। এর পর থেকে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ওই ব্যক্তিকে পাওয়া যাচ্ছিলনা। আমাদের ধারনা মহিনের সহযোগিতায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিটি পালিয়েছেন।
এব্যাপারে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ হাবিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও বিকাশে কর্মরত মোঃ আফসার উদ্দিন চৌধুরী নামে এক লোক বান্দরবানে আসায় তাকে হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে দেয়া হয়েছিল। সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় যুবক ও বিকাশে কর্মরত মুহিন ওই কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিকে ইফতারি দিতে গিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। এঘটনায় মুহিনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৩ মাস কারাদন্ড ও বিশ হাজার টাকা অর্থ দন্ড দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে সরকার লকডাউন ঘোষনা করলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। বান্দরবানে লকডাউনে থাকা গরীব,দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে ত্রান,খাবার ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকরন নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারী, বেসরকারী, ব্যক্তিগত ও সামাজিক সংগঠনের পাশা পাশি স্থানীয় যুবক মুহিনও ব্যাপক ভুমিকা পালন করেছে। কখনো নিজের টাকায় আর কখনো বন্ধু বান্ধবের টাকায় কেনা ত্রান ও খাদ্য নিয়ে রাত দিন নিজেই বিলিয়ে দিয়েছেন অসহায় ক্ষুধার্থ মানুষের সেবায়। মুহিন নামের ছোট এই ছেলেটার আকান্ত পরিশ্রম সকলের নজর কাড়ে। তাকে ফাঁসানোর ঘটনায় স্থানীয়রা ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এদিকে এঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছা সেবক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে স্বেচ্ছা সেবক কর্মী মুহিনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language