শিরোনাম

বার্সাতেই আস্থা মেসির

স্পোর্টস ডেস্ক

চলে যাওয়ার তাড়নাটা যেমন সত্যি, বার্সেলোনার প্রতি ভালোবাসাটাও তেমন সত্যি। আরেক মৌসুম ন্যুক্যাম্পে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর লিওনেল মেসি জানালেন, দলের সেরা সাফল্যের জন্য এবারও নিংড়ে দেবেন নিজের সবটুকু। দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্কের সুতোয় টান পড়েছিল হঠাৎ করে।

কিছুদিন টানাপোড়েন চলার পর আবার সেই আগের অবস্থায় ফিরছে। শুক্রবার গোল ডটকমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মেসি জানান, এবারের টানাপোড়েন ভুলে প্রিয় দলকে দিতে চান আগের মতোই মুঠোভরে, ‘বার্সেলোনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাব এবং কতটা তীব্রভাবে ক্লাব ছাড়তে চেয়েছি, সেটির কোনো প্রভাব আমার মানসিকতায় পড়বে না। নিজের সেরাটা দেব আমি। আমি সবসময় জিততে চাই। আমি লড়াকু এবং কিছুই হারতে পছন্দ করি না। সবসময় ক্লাবের, ড্রেসিংরুমে এবং আমার জন্য সবচেয়ে ভালোটা চেয়েছি।’

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবার নিয়ে বার্সেলোনার সাফল্য খরা দীর্ঘায়িত হল টানা পাঁচ মৌসুম। কোচ কিকে সেতিয়েনকে বিদায় করে রোনাল্ড কোমানকে আনা হয়েছে দলকে পথে ফেরাতে।

মেসি জানালেন, দলের প্রয়োজনের কথা আগেই বলেছিলেন তিনি, ‘আমি সেসময় এটা বলেছিলাম যে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের জন্য আমাদের যে সহায়তা দরকার, সেটা দেয়া হচ্ছে না। আসলে, আমি জানি না এখন কী হবে। নতুন একজন কোচ এসেছেন এবং নতুন ভাবনা থাকবে।

এটা ভালো, কিন্তু আমাদের দেখতে হবে দল কীভাবে সাড়া দেয় এবং এটা আমাদেরকে শীর্ষ পর্যায়ে লড়াই করতে দেয় কি না। যেটা বলতে পারি, সেটা হচ্ছে যে, আমি থাকছি এবং বার্সেলোনার জন্য নিজের সেরাটা দেব।’ এবারই প্রথম নয়, বার্সেলোনা ছেড়ে দেয়ার সুযোগ আগেও পেয়েছিলেন মেসি। সমালোচকদের সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘সব সময় আমি ক্লাবকে সবকিছুর ওপরে রেখেছি। অনেকবারই বার্সা ছাড়ার সম্ভাবনা ছিল। প্রতি বছরই চলে যেতে পারতাম এবং বার্সেলোনার চেয়ে বেশি আয় করতে পারতাম। সব সময় বলেছি, এটাই আমার ঘর এবং এটাই আমি অতীতে অনুভব করেছি এবং এখনও করি। আমি চলে যেতে চেয়েছিলাম, কারণ ফুটবলে আমার শেষ কয়েক বছর সুখে থাকতে চেয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে এই ক্লাবে আমি সুখ খুঁজে পাইনি।’

মেসির অসুখের কারণটা যে ক্লাব সভাপতি হোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ তা এখন সবারই জানা। বাধ্য হয়ে বার্সায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বার্তোমেউর মুখোশ সবার সামনে উন্মোচিত করেছেন ৩৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তুলেছেন প্রতারণার অভিযোগ। জানিয়েছেন বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা হাজারও অনিয়মের কথা। বার্তোমেউকে যেভাবে ধুয়ে দিয়েছেন মেসি তাতে ন্যুক্যাম্পে নতুন ঝড় ওঠার শঙ্কা থেকেই যায়।

বার্সা সভাপতি এখন পদত্যাগ না করলে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি শেষে নিশ্চিতভাবেই ফ্রি এজেন্ট হিসেবে দলবদল করবেন মেসি। আপাতত থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য মেসিকে কুর্নিশ জানিয়েছে বার্সেলোনা। বার্তোমেউও নাকি মেসির বিরুদ্ধে জনসমক্ষে কিছু না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিক্ততা আর বাড়াতে চান না তিনি। স্পেনের বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক সিকে রদ্রিগেজ টুইটারে লিখেছেন, ‘মেসির অভিযাগের জবাব দেবেন না বার্তোমেউ। মেসির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধে জড়াতে চান না তিনি। মেসিকে খুশি রাখতে লুইস সুয়ারেজকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকেও নাকি সরে আসতে পারে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। অনুশীলন বয়কটের জন্য মেসিকে কোনো শাস্তিও দেয়া হবে না। করোনা পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা সেরে যত দ্রুত সম্ভব ক্লাবের অনুশীলনে যোগ দেবেন বার্সা অধিনায়ক।

গত ১০ দিনে তাকে নিয়ে প্রকাশিত মিথ্যা খবরগুলোতে মেসির হৃদয় পুড়েছে প্রবলভাবেই। মেসির ভাষায়, ‘আমার বিরুদ্ধে যে খবরগুলো প্রকাশিত হয়েছে, আমাকে তা প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছে, বিশেষ করে মিথ্যা খবরগুলো। তারা ভেবেছিল নিজের লাভের জন্য আমি বার্সার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাব। এ ধরনের কাজ আমি কখনই করব না। আবারও বলছি, আমি চলে যেতে চেয়েছিলাম এবং এটা আমার অধিকার।

কারণ চুক্তিতেই ছিল, আমাকে ছেড়ে দেয়া যায়।’ ২০ বছর আগে বার্সেলোনার আঙিনায় আসেন মেসি। এখানকার আলো-বাতাসে, যত্নে বেড়ে উঠেছেন। প্রতিটি মুহূর্তের বাঁকে বাঁকে কত গল্প লেখা! কিন্তু যখন ক্লাব ছাড়তে চাইলেন, তখন দলের প্রতি তার নিবেদন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। তাতে আহত হয়েছেন মেসি। তবে কাছের কিছু মানুষকে পাশে পেয়েছেন বলেও জানালেন রেকর্ড ছয়বারের বর্ষসেরা ফুটবলার, ‘আমি একাকী বোধ করিনি। কিছু মানুষ আছে, যাদেরকে সব সময় পাশে পেয়েছি। এটাই আমার জন্য যথেষ্ট এবং এটাই আমাকে শক্তি জোগায়।

কিন্তু কিছু বিষয়ে আমি কষ্ট পেয়েছি। কিছু লোক, কিছু সাংবাদিক বার্সেলোনার প্রতি আমার নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং এমন সব কথা বলেছে, যা আমার প্রাপ্য ছিল না। এসব অবশ্য আমাকে মানুষ চিনতে সহায়তা করেছে।’

কঠিন এই সময়টায় চারপাশের বাস্তবতা উপলব্ধি করেছেন মেসি। তাতে তার কণ্ঠে অভিমানের সুর যেমন ফুটে উঠল, তেমনি ক্লাবের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরলেন, ‘ফুটবলের দুনিয়াটা খুব কঠিন এবং এখানে অনেক কপট মানুষ আছে। এই ক’দিনে যা হল, এসব আমাকে সাহায্য করেছে কপটদের চিনতে, যাদের সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল ভিন্ন। ক্লাবের প্রতি আমার ভালোবাসা প্রশ্নবিদ্ধ করাটা আমাকে আহত করেছে। আরও কতদিন থাকি বা না থাকি, সেটা কোনো ব্যাপার নয়। বার্সার প্রতি আমার ভালোবাসা কখনও বদলাবে না।’


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language