শিরোনাম

বেলা

রাত দশটা বাজে পার্কের পাশের চেয়ারটায় বেলা বসে আছে চারপাশেই ঘন অন্ধকার শুধু মশাদের উৎপাত অসহ্য করে তুলেছে বেলার চারপাশে। ট্রেন আসতে আরে এক ঘন্টা বাকি।তারমানে আমি আরও এক ঘন্টা বেঁচে থাকবো।চোখের সামনে ভেসে উঠছে পরিবারের প্রিয় মানুষ গুলোর মুখ।কিন্তু কান্না পাচ্ছে না।কি হবে কেঁদে? আমি কাঁদবো কেন?হঠাৎ পিছনে কারো শব্দ শুনে চমকে উঠে বেলা।আপনি কি নিশিকন্যা?নিশিকন্যা মানে?আমাকে দেখে কি আপনার তাই মনে হয়?মানুষ দেখে কখনো মানুষ চেনা যায়না।একাএকা এতো রাতে বসে আছেন ভাবলাম খদ্দেরের জন্য বসে আছেন।আপনার পাশে একটু বসতো পারি?বেলাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই পাশে পড়ে।বেলা মনেমনে বলে কি নিলর্জ্জ ছেলে এটা।বসে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে আনমনে টানতে থাকে আজকের রাতটা খুব সুন্দর তাইনা?দেখেন কৃষ্ণচূড়ায় পাতার ফাঁক দিয়ে চাঁদটা কেমন টুকরো টুকরো দেখা যায়।আর চাঁদের আলো যেন কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলোতে জোনাকির আলো জ্বেলে রেখেছে। আচ্ছা আপনি এতো রাতে একাএকা এখানে বসে আছেন কেন?বাড়ী থেকে কি রাগ করে চলে এসেছেন? আপনি এতো কথা বলেন কেন?আমি আত্যহত্যা করতে এসেছি এবার হয়েছে?এখানে বসে থেকে কিভাবে আত্যহত্যা করবেন?তারচেয়ে ভালো মরার জন্য ভালো কোন জায়গা বেঁচে নেন।আমি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। এক ঘন্টা পর রেলের নিছে ঝাপ দিবো।সমস্যা নাই এই এক ঘন্টা আমি আপনার সাথে কথা বলি। তারপর আমিই আপনাকে সহযোগিতা করবো।এবার বলেন কেন মরতে চান?বেলা বলে আচ্ছা আপনার কি কখনো আত্যহত্যা করতে ইচ্ছে করে?হ্যা প্রায় করতে ইচ্ছে করে কিন্তু আমি এতোটা সাহসী নই।একজন মানুষ যখন নিজের জীবনকে সবচে বেশী ভালোবাসে তখনই তার মরতে ইচ্ছে করে।আর আত্যহত্যা করতে হলে অনেক সাহস লাগে আমার মতো ভিতুরা কখনো আত্যহত্যা করতে পারেনা।এদিক দিয়ে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ কারণ আপনি সাহসী এবং জীবনকে খুব ভালোবাসেন।
এইমাত্র না একটা একটা সিগারেট খেলেন?ছেলেটার হাসিটা বড্ড অদ্ভুত। আগেছালো চুলো পুরো মুখটা ঢেকে রেখেছে বুঝাই যায়না এলোমেলো চুলের আড়ালে একটা মানুষের মুখ আছে। ছেলেটা আনমনেই বলতে থাকে আপনি রেলস্টেশনে শুয়ে থাকা মানুষ গুলোর কথা ভাবুন কেউ খালি গায়ে কেউ মাথার নিছে হাত দিয়ে শুয়ে আছে।তারা কিন্তু কেউ মরতে চায়না।ওরা চাইলেই প্রতিদিন আত্যহত্যা করতে পারে কারণ ওদের পাশ দিয়ে প্রতিদিনই ট্রেন যায়।তারপরও ওরা বেঁচে থাকে পঙ্গু ভিক্ষুকটাও এখানে ওখানে হাত পেতে যা পায় তাইদিয়েই খেয়ে বেঁচে থাকে। পঙ্গু লোকটা কিনতু চাইলেই ঝাপ দিতে পারে ট্রেনের নিছে।কিন্তু তা সে করেনা। কারণ বেঁচে থাকা অনেক আনন্দের জীবন অনেক সুন্দর। বেলা হাত ঘড়িটা দেখে নেয়। ট্রেন আসতে আরো আধা ঘন্টা বাকী।বেলা কোন কথাই বলেনা ছেলেটা বকবক করতে থাকে। আপনি কাল দুপুরে একটা অনাহারি পথ শিশুকে হোটেলে নিয়ে পেট ভরে ডাল ভাত খাওয়ান দেখবেন ছেলেটা কতো খুশি হয়েছে, তার মুখের হাসি দেখে আপনার বাঁচতে ইচ্ছে করবে।তাকে একটা শাট কিনে দেন দেখবেন সে আপানার দিকে কেমন ছলছল চোখে তাকিয়ে থাকবে ঐ জল টুকু মুছে দিতে আপনার বাঁচতে ইচ্ছে করবে।আপনার মনে হয় সময় হয়ে এলো চলুন আপনাকে পৌঁছে দেই,টেন আসতে বেশী সময় নেই। বেলা জানতে চায় আপনার নামটা কি জানতে পারি।এই প্রথম ছেলেটা হাসে। ছেলেটার হাসি অদ্ভুত রকম সুন্দর। অনেক কিছু জয় করার ক্ষমতা রাখে এই হাসি।ছেলেটাকে খুব জানতে ইচ্ছে করছে বেলার।আরেকটা সিগারেট জ্বালিয়ে ছেলেটা বলে আপনি সকাল হলে বাড়ী চলে যান। গিয়ে ভাবেন কোন কোন কারণে আমি আত্যহত্যা করতে চান।কি কি পেয়েছেন আর কি কি পাওয়ার বাকি আছে। বাকি পাওয়া গুলো না পেয়েই কেন চলে যেতে চান?পৃথিবীকেতো আপনারও কিছু দেবার আছে কি কি দিবেন সে কারণগুলো খুঁজে বের করুন।ছেলেটার কথাগুলো গভীর এভাবেতো জীবনকে ককনো ভাবিনি।বেলা বলে চলুন চা খেয়ে আসি।আমার কাছে কোন টাকা নেই, ৩০,টাকা ছিল দুপুরে আর টুকাই মিলে হোটেলে ভাত খেয়েছি।আমার কাছে আছে চলুন। আপনিতো একটু পরেই মরে যাবেন। আমিতে আর টাকা শোধ করতে পারবোনা। শোধ দিতে হবেনা চলুন।না থাক আমি যাই জীবনটাকে নতুন করে ভাবুন সুন্দর করে সাজান তাহলে আমি সবচে খুশি হবো যাই ভালো থাকবেন।আপনার নামটা কি বলবেন। আমি পথকবি। মানুষের কোন নাম হয়না মানুষই ঈশ্বর মানুষই যিশু।

 

ইকবাল হাসান

আরব আমিরাত


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language