শিরোনাম

যথাযোগ্য মর্যাদায় গুরুভান্তের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে: খিয়ংওয়া কিয়ং কমিটি

বান্দরবানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাজগুরু বিহারের নবনিযুক্ত ৯ম বিহারাধ্যক্ষ উ ঞানাসিগি (জ্ঞানপ্রিয়) মহাথের এর অভিষেক রাজকীয় প্রথাগত নিয়মে সম্পন্ন হয়েছে।
২৮ই মে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় সরকারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজকীয় আয়োজনে
বোমাং সার্কেলের ১৭তম রাজা বোমাংগ্রী উ. উ চ প্রু চৌধুরী নেতৃত্বে রাজপরিবারবর্গ ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বী উপাসক-উপাসিকাসহ (পাঙ) এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এছাড়াও বৃহস্পতিবার সকালে সংঘকুল, রাজা বোমাংগ্রী উ. উ চ প্রæ চৌধুরী দায়ক-দায়িকাসহ যথাযথ মর্যাদায় বিহারে প্রবেশ করার পর পঞ্চশীল গ্রহণপূর্বক ফুল ও ছোঁয়াই (আহার) দানের মধ্যদিয়ে নবনিযুক্ত ৯ম বিহারাধ্যক্ষ উ ঞানাসিগি (জ্ঞানপ্রিয়) মহাথেরকে অভিষিক্ত করা হয়।
অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং মারমা, রাজপরিবারের সদস্যবৃন্দসহ বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিভিন্ন বিহারের বৌদ্ধ ভিক্ষু, দায়ক-দায়িক ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বী শত শত নারী-পুরুষেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০এপ্রিল নিজ পৈত্রিক গৃহে বিহারে রাজগুরু বিহারের বিহারাধ্যক্ষ উ পঞ্ঞাজোতা মহাথের (উচহ্লা ভান্তে) প্রয়ানের পর অজ্ঞাত কারণে তাকে ঐদিন চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে নিয়ে কথিত লাইফ সাপোর্টে রাখার তিনদিন পর মরদেহ পচন ধরার পর বাধ্য হয়ে ১৩এপ্রিল মৃত ঘোষনা করা হয়। এরপরে শিষ্য ও পরিবারের সদস্যরা অজ্ঞাত কারণে ওনার মৃতদেহ বান্দরবানে না এনে রাউজাউনের খৈয়াখালি শিষ্যের বিহারের নিয়ে রাখা হয়। উচহ্লা ভান্তের প্রয়ানের পর থেকে রাজগুরু বিহারের বিহারাধ্যক্ষ আসনটি শূণ্য হয়ে পড়ে।
এদিকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ও রাজ পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক ও প্রথাগতভাবে যুগ পরম্পরায় এই রাজগুরু বিহারে বোমাং সার্কেলের রাজা কর্তৃক বিহারাধ্যক্ষ নিয়োগের বিধান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বোমাং সার্কেলের ১৭তম রাজা বোমাংগ্রী উ. উ চ প্রু চৌধুরীর ঘোষনা দেন, ২৮ই মে বৃহস্পতিবার ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ হইতে আপনাকে (নবনিযুক্ত ৯ম বিহারাধ্যক্ষ উঞানাসিগি (জ্ঞানপ্রিয়) মহাথের) রাজগুরু বৌদ্ধবিহারে অধিষ্ঠিত অন্তর্বতীকালীন বিহারাধ্যক্ষ হিসাবে সাদরে পুলকিত চিত্তে স্বীকৃতি প্রদান করছি এবং রাজগুরু বিহারে প্রধান দায়ক হিসাবে আপনার চর্তুপ্রত্যয় পূরণসহ যাবতীয় কুশলাদি সম্পন্ন করার দায়িত্বভার গ্রহণ করিলাম।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ও রাজপরিবার সূত্রে জানা গেছে, উচহ্লা ভান্তের মৃত্যু পর তাকে নিয়ে মৃত ও জীবিত, রাজগুরু বিহার পরিচালনা কমিটির মধ্যে নানা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। প্রাচীন বিহারের সংরক্ষিত হাজার বছরের পুরনো প্রাচীনতম একটি বুদ্ধপূর্তি চুরি হয়ে যাওয়ার আশংকায় সীলগালা করা হয়। এতে সচেতন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও নেতৃবৃন্দের অনুরোধে পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, আঞ্চলিক পরিষদ এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু, ভিক্ষু পরিষদের সমন্বয়ে বিহারের দায়িত্ব প্রথাগত নিয়মানুসারের বোমাং সার্কেলের ১৭তম রাজার কাছে হস্থান্তর করেন।
অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা বলেন, বুদ্ধমূর্তিটি সীলগানা করা হয়নি, এটি নিরাপদ রাখতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। যদি হাজার বছরের প্রচীনতম আসল বুদ্ধমূর্তিটি হয়ে থাকে। তাহলে এটি একটি রাষ্ট্র সম্পদ ও ঐতিহ্য। তাই প্রত্নতত্ত্ববিদ দিয়ে পরীক্ষা করা হবে। এটির সঠিক বয়সকাল নির্ধারণের জন্য এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করা হয়েছে সকলের অনুরোধক্রমে।
বোমাং সার্কেলের ১৭তম রাজা বোমাংগ্রী উ. উ চ প্রু চৌধুরী বক্তব্যে বলেন, রাজগুরু বিহারের বিহারাধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি প্রথাগত আইন ও সকল নিয়ম মেনে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিহারটি সকলের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও রক্ষা করতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
নবনিযুক্ত ৯ম বিহারাধ্যক্ষ উ ঞানাসিগি (জ্ঞানপ্রিয়) মহাথের সকলে উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আমার অভিভাবক। আপনারা আমাকে যে দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন সেটি ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী বিহারে ঐতিহ্য রক্ষা ও সংরক্ষণ করা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করবো। আমার কাছে সকলেই সমান। কোন ভেদাবেদ থাকবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, শ্রদ্ধেয় পূজনীয় গুরুভান্তের মরদেহ সকলের অংশগ্রহণে সুন্দরভাবে যথাযথ মর্যাদায়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আমরা সকলেই মিলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানসহ সকল ঐতিহ্যগুলো রক্ষা করতে হবে এবং আমরা সকলেই মিলেমিশে থাকবো। তিনি বিহারের সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজগুরু বিহার, উজানীপাড়া বৌদ্ধ বিহারসহ জেলার সকল বিহারের যেসব ভেজাল বা দ্বন্দ্ব রয়েছে। আগামীতে যাতে এসব দ্বন্দ্ব-ভেজাল না থাকে সে দিকে সকলের নজর রাখতে হবে। মিলেমিশে সকলকে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন পার্বত্য মন্ত্রী।


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language