শিরোনাম

যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়া এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণেই বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। আমি মনে করি বিএনপির দোষেই তারা ৭ আসন পেয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণেই তাদের ভরাডুবি হয়েছে।”

আজ (সোমবার) বিকেলে গণভবনে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় ৩০টি দেশের পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা নির্বাচনে বিএনপির সাতটি আসন পাওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে প্রশ্ন করেন।  এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে বিএনপি সাতটি আসন পেয়েছে তাদের নিজেদের কারণে। নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের প্রধান কে হবে তা তারা দেখাতে পারেনি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে তাকালে আপনারা দেখবেন-কংগ্রেসও গত নির্বাচনের আগে দেখাতে পারেনি তাদের প্রধান কে হবেন? তারা মানুষকে ওইভাবে আকৃষ্ট করতে পারেনি। ঐক্যফ্রন্টের ক্ষেত্রেও তাই-ই হয়েছে।

ভোটে পরাজয়ের কারণগুলো তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি তাদের জোটে মানবতাবিরোধীদের নমিনেশন দিয়েছে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জামায়াত ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই দলের ২৫ জনকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন দিয়েছে, এজন্য তাদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। আর বিএনপির মূল লিডাররা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত এবং আদালতের রায়ে অভিযুক্ত। তাদের একজন কারাগারে ও অন্যজন পলাতক। সুতরাং তাদের মূল নেতৃত্বের অভাব ছিলো। পরাজয়ের এটিও একটি কারণ।’

মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপির অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। তারা টাকার বিনিময়ে অর্থাৎ যে টাকা বেশি দিয়েছে তাকেই নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়নি তারা। একেকটা আসনে চারজন, পাঁচজন ও তিনজন করে নমিনেশন দিয়েছে। এতে কেউ আর ওইভাবে মাঠে কাজ করেনি। কে কী করবে, না করবে না তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে কেউ কাজ করেনি,’

শেখ হাসিনা বলেন, এবারের ভোটে কোনো কারচুপি হয়নি। কেউই যদি প্রমাণ করতে পারে কারচুপি হয়েছে তাহলে পুনরায় ভোট হতে তো আমাদের আপত্তি নেই।

তিনি বলেন, আজকের পরাজিতরা যদি জনগণের জন্য রাজনীতি করে তাহলে তারাও আগামীতে ক্ষমতায় যেতে পারে। জনগণের জন্য রাজনীতি করলে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যাওয়া যায় বলেও জানা তিনি।

এর আগে, সকালে গণভবনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বেসামরিক এবং সামরিক প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ জাতীয় নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে আসেন। সে সময় তিনি বলেন, বিজয়ের মাসে বাঙালি জাতির এটি একটি অন্যতম বিজয়। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে আরও পাঁচ বছর কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বলে তিনি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আবারও বলব একটা কথা যে, ক্ষমতা আমার কাছে কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার কিছু না বা এটা দিয়ে আমার কিছু না। আমি মনে করি এটা একটা সুযোগ হচ্ছে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, দেশের মানুষের কল্যাণ করা এবং সেটাই একমাত্র লক্ষ্য আমার। কারণ যে কাজটা আমার বাবা করে যেতে পারেননি, তার এ প্রিয় বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের প্রিয় মানুষগুলো তাদের জন্য তিনি সবসময় যে চিন্তা করতেন এবং তিনি এ দেশটাকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন একটি দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যখন আরও পাঁচটা বছর হাতে সময় পেলাম অন্তত কাজগুলো করতে পারব।’

এ সময় সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ডিসেম্বর মাস, আজকে শেষ হয়ে যাবে। আগামীকাল নববর্ষ, সবাইকে আমি ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আর বিজয়ের মাসে আরেকটি বিজয় বাঙালির জন্য এসেছে সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language