শিরোনাম

রাজগুরু বিহার নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত শিষ্যরা- বোমাং রাজার বিবৃতি

তন্ত্র-মন্ত্রে হাজার চেষ্টাও গুরুর মৃতদেহে প্রাণ ফিরাতে না’পারা ব্যর্থতার সকল গুমর ভক্ত-অনুসারীদের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ার ধান্ধাবাজিতে মন্দাভাবের মুখে পড়েছে কতিপয় শিষ্যরা। এদিকে গুরুর মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দানকৃত পরিসম্পদ ভাগবাটোয়ারা ষড়যন্ত্র, মরদেহ নিয়ে শিষ্যদের ধান্ধাবাজির লিপ্ত থাকার তথ্য বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পর সচেতন ও সাধারণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এতে উক্ত শিষ্য-অনুসারীরা মহাবিপাকে পড়ে গেছে। এতে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতারাতি তৈরি করা কিছু ভূয়া ফেইসবুক আইডি ও ওয়েব পেজে নানান অপপ্রচার চালিয়ে শেষ সম্বল রক্ষা করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

স্থানীয় ইউ মং মারমা বলেন, এসব অপপ্রচার মূলহোতা ও মদদদাতা পটিয়ার সজীব বড়ুয়া নামে এক কথিত যুবক। তিনি তন্ত্র-মন্ত্রে আসক্ত ও অন্ধভক্ত অজ্ঞাতকুলশীল (নাজায়েজ) কথিত এক শিষ্য।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাজগুরু বিহারের নবনিযুক্ত বিহারাধ্যক্ষের অভিষেক অনুষ্ঠানকে ঘিরে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এসব পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেয় রাজগুরু বিহার এলাকা সংলগ্ন জাদী পাড়া, কলা পাড়া ও টাউনহল পাড়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মহিলা-পুরুষরা। তারা বিহারে থাকা পুরোনো অকেজো জিনিসপত্র ও ময়লা-আবর্জনা গুলো বাহিরে স্তুপ করা হয়। এতে অপপ্রচার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পড়ে উচহ্লা ভান্তের কথিত শিষ্যরা। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মহিলা-পুরুষরা জানান, স্তুপ করা পুরোনো অকেজো জিনিসপত্র ও ময়লা-আবর্জনা গুলোর ছবি ও ভিডিও গোপনে ধারণ করে নেন উক্ত বিহারে লোকচুক্ষের আড়ালে থাকা উচহ্লা ভান্তের কথিত শিষ্যরা। সেখান থেকে অজ্ঞাতকুলশীল সজীব বড়ুয়াসহPannya- পঞঞা প্রজ্ঞাPariyatti news BD, U Pannya Cakka Thera কথিত ব্যক্তিদের সরবরাহ করা ঐসব ছবি ও ভিডিও ভূয়া ফেইসবুক আইডি ও ওয়েব পেজে পোস্ট করে বলেন, ভান্তের শিষ্যদের বিতাড়িত করতে তাদের ব্যবহারকৃত জিনিসপত্র বাহিরে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

এবিষয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত মংক্যঅং মারমা ও টিমং মারমা জানান, আমরা ক্যাং (জাদী)তে বর্তমানে যে ভান্তে আছে (আবাসিক ভান্তে) মহা পঞঞা ভিক্ষুকে নমস্কার দিয়ে বলেছি ভান্তে  বৃহস্পতিবার অভিষেক অনুষ্ঠান হবে। এজন্য ক্যাং ধোয়া-মোছা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে এসেছি। ভাঙ্গা পুরানো ও অকেজো জিনিসপত্র গুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। এগুলো কোথায় রাখবো আমাদেরকে পরামর্শ দেন। কিন্ত কয়েকবার বলার পরও আবাসিক ভান্তে মহা পঞঞা ভিক্ষু আমাদের কোন কথার উত্তর দেয়নি। এতে আমরা অকেজো জিনিসপত্র বিহারের সামনে খালি জায়গায় ও কাচারী ঘরে মওজুদ এবং স্তুপ করে রাখি। কিন্তু শিষ্যরা গোপনে ছবি ও ভিডিও তুলে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এঘটনায় রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার নিয়ে সমালোচনা ও উস্কানীমূলক মন্তব্য না করতে বিবৃতি দিয়েছেন বোমাং রাজার কার্যালয় হতে বোমাং রাজা উচপ্রু চৌধুরী। বোমাং রাজা উচপ্রু চৌধুরীর পক্ষে স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, খিয়ংওয়াক্যং (রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার) এর রীতি ও অনুশাসন অনুযায়ী বিহারাধ্যক্ষ প্রয়ানের পর বৌদ্ধ বিহারের পরবর্তী বিহারাধ্যক্ষ ফাং (নিয়োগ) পর্যন্ত বিহারের যাবতীয় দায়িত্ব বোমাং রাজা পালন করে থাকেন এবং তা যথাযথ ভাবে পালন করে যাচ্ছেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে আগামী ২৮ মে ২০২০ ইং তারিখ পূজনীয় ভদন্ত উ: ঞানাপিয়া (জ্ঞানপ্রিয়) মহাথের কে খিয়ংওয়াক্যং (রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার) এর বিহারাধ্যক্ষ হিসাবে অভিষেক প্রদান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ অনুষ্ঠানটি পরিপূর্ণ করার জন্য সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও শুভাকাঙ্খীদের সহযোগিতা কামনা করছি, তাই খিয়ংওয়াক্যং (রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার) কে কেন্দ্র করে কোন ধরণের সমালোচনা কিংবা বিভ্রান্তকর ও উস্কানীমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language