শিরোনাম

লুম্বিনী গার্মেন্টেসের ৫৪১ শ্রমিক কোয়ারেন্টাইনে

বর্তমান আতংকের অপর নাম করোনা ভাইরাস। আর সে আতংক জেঁকে বসেছে খোদ পাহাড়ী জেলা বান্দরবান শহরবাসীর মধ্যে। বাংলাদেশে মহামারি করোনা  সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মাঝামাঝি সময় থেকে গত ২৪ই মে পর্যন্ত বান্দরবান জেলা সদর ও শহরের বাহিরের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, থানছি ও রোয়াংছড়ি ৪টি উপজেলায় করোনা আক্রান্ত সংখ্যা ছিল ১৭জন। কিন্তু এতদিন জেলা শহর এই সংক্রমণের বাহিরে থাকলেও গত ২৫ই মে নতুন করে ২জন করোনা সনাক্ত হওয়ার পর পুরো জেলা শহর জুড়ে ভাইরাস আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে দুই জনেই জেলার বাহিরের করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় প্রবেশ করেছে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রগুলো জানান।
এঘটনায় ফেইসবুকসহ যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সচেতনমহল স্থানীয়দের সচেতন করে তুলতে নানা সর্তকমূলক পোস্ট দিয়ে চেষ্টা চালাতেও দেখা গেছে। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে নানান পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বান্দরবান-চট্টগ্রাম-ঢাকার প্রধান সড়কটি প্রশাসনের নজরদারীর আওতায় থাকলেও নৌপথ ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো নজরদারীর বাহিরে রয়েছে। ফলে বাহির থেকে লোকজন জেলা শহরে অবাধে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের কুহালং ইউনিয়নের চেমি ডলুপাড়া, ডলুপাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়ন,
চন্দনাঈশের ধোপাছড়িসহ বিভিন্ন সড়ক দিয়ে শহরে প্রবেশ করছে মানুষ। এসব কারণে জেলায় করোনা সংক্রমণ রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ অভিযোগ করেছেন। তারা এবিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে আনন্দ (৩৬) নামে একজন জেলা সদরের মেঘলা পর্যটন স্পট সংলগ্ন গার্মেন্টস লুম্বিনী লিমিটেডের কর্মী। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার ঈদগাহ। ধনঞ্জয় দেবনাথ (৩৭) নামে অপর আক্রান্ত জেলার উপশহর বালাঘাটা এলাকার স্বর্ণমন্দির রোডের চায়ের দোকানদার। তার বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়। সে কুহালং ইউনিয়নের চেমি মূখ দিয়ে বান্দরবানে প্রবেশ করেন। উক্ত দুই ব্যক্তি জেলা বাহিরের নিজ নিজ এলাকায় আক্রান্ত হলেও তারা ব্যবসা ও কর্মস্থলের স্থান হিসেবে জেলা শহরের প্রবেশ করেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২৫ই মে সোমবার আক্রান্তদের রিপোর্ট পজেটিভ আসায় মেঘলার লুম্বিনী লিমিটেড এর গার্মেন্টস কর্মীকে আইসোলেশনে নিয়ে আসা হয় এবং তার ভাড়া বাসার অপর রুমমেটকে লকডাউন করা হয়। লুম্বিনী গার্মেন্টসকে লকডাউন ঘোষনা করেছে প্রশাসন।  এছাড়া স্বর্ণমন্দির রোডের চা দোকানদার গত ১৮ই মে নমুনা দেওয়ার পর সে নিজ গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ায় তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। তবে তার দোকানের অন্য সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় এনে বাড়িটিকেও লকডাউন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ১৮মে সকালে কক্সবাজারের ঈদগাহ থেকে বান্দরবানে কর্মস্থলে আসা লুম্বিনী গার্মেন্টসের এক কর্মীর করোনার নমুনা পরীক্ষার পর তাকে মেঘলা এলাকায় হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। অপরদিকে স্বর্ণমন্দির এলাকার সনাক্ত হওয়া ব্যক্তি জ্বর নিয়ে হাসপাতালে গেলে তার নমুনা সংগ্রহ করে তাকে স্বর্ণমন্দির রোডে তার বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। কিন্তু বিকালেই সে নিজ বাড়ি পটিয়া ফিরে যান।
বান্দরবান সিভিল সার্জন ডাঃ অংসুই প্রæ মারমা নতুন দুই ব্যক্তি করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে এপ্রতিবেদককে জানান, তারা দুইজন জেলা বাহিরের মানুষ। দুইজনেই আক্রান্ত হয়েছে নিজ নিজ এলাকা বা অন্য কোন স্থানে। স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। দুইজনেই পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। তিনি জানান, এপর্যন্ত ১৯জন আক্রান্ত হলেও ইতিমধ্যে ১২জন সুস্থ হয়ে উঠেছে। তবে করোনা আক্রান্ত হয়ে কোন রোগী মারা যায়নি। তিনি আরো জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করাসহ নানান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
এব্যাপারে বান্দরবান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শামীম হোসেন জানান, এক শ্রমিক করোনা পজিটিভ হওয়ায় লুম্বিনী লিমিটেডকে লক ডাউন করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে লুম্বিনীর ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ৫৪১জন শ্রমিকের হোম কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও মেঘলা ক্যাফের আশপাশের সকল দোকানে লুম্বিনীর শ্রমিকদের যাতায়াত থাকায় ঐসব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সকলকে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যদের সাথে শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে এবং অন্যদের থেকে আলাদা থাকতে বরা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিকের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা আক্রান্ত কিনা পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান। এসময় তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলেন, আতংকিত হবেন না। সচেতন হউন। শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখুন। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করুন। প্রশাসন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করুন। তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাস একটি বৈশিক সমস্যা। বাংলাদেশেও প্রতিদিন বহু মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তি বা পরিবারের প্রতি কোনরূপ খারাপ ব্যবহার না করা অনুরোধ করেন স্থানীয়দের। তিনি বলেন, কেউ কোন প্রকার খারাপ আচরণের করলে ও চেস্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বান্দরবানবাসীদের প্রতিত আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাযায়, বান্দরবানে এই পর্যন্ত ১০৪৮জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ৬৮৯জনের পরীক্ষার ফলাপল পাওযায় যায়। তার মধ্যে ১৯জনের  রিপোর্ট পজেটিভ পাওযায়। জেলায় ১৪৫৪জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। তার মধ্যে মুক্তি পায় ৬৭২জন।  প্রাতিষ্ঠানিক ৫৪জন সকলেই মুক্তি পেয়েছে।

Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language