Templates by BIGtheme NET
শিরোনাম
জামালপুরে জুয়াড়িদের গ্রেপ্তারে শহর অবরুদ্ধ

জামালপুরে জুয়াড়িদের গ্রেপ্তারে শহর অবরুদ্ধ

জুয়ার আসর থেকে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাতভর তাঁদের ছাড়াতে চেষ্টা চলেছে। কাজ হয়নি। তাই পুরো শহর অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়। সাত ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধে অচল হয়ে পড়ে শহর। দুর্ভোগে পড়ে এলাকাবাসী।

আজ শনিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জামালপুর শহরে এ অবস্থা চলে। শহরের ফেরিঘাট, ভকেশনাল, জিগাতলা, বাইপাস মোড়, ছোনকান্দা, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনেসহ বিভিন্ন প্রবেশপথের সড়কে আড়াআড়িভাবে ট্রাক, বাস, পিকআপ ভ্যান রেখে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শহরের শফি মিয়ার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে জামালপুর জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিক, দালান নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক লীগ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি আতাহার আলীসহ ২২ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে নেতা-কর্মীরা অবরোধ তুলে নেন। পরে যানবাহন চলাচল আবার শুরু হয়।

অবরোধ চলার সময় শহর ঘুরে দেখা যায়, শত শত যানবাহন আটকে আছে। বাদ পড়েনি পত্রিকাবাহী গাড়িও।

সীমান্তবর্তী এলাকা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ি এলাকা থেকে এসেছিলেন রফিকুল ইসলাম। ঢাকায় যাওয়ার কথা তাঁর। খুব ভোরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বসে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘শুনতে পেলাম জুয়াড়িদের গ্রেপ্তার করায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে মানুষকে জিম্মি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এ দেশের রাজনীতি আর শেষ হবে না।’

নারকেলী এলাকার বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম সকালে  বলেন, সাধারণ মানুষকে বোকা পেয়েছে। তাঁদের স্বার্থের কারণে নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেন। জুয়াড়িদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নেতা-কর্মীরা দেশটাকে মগের মুল্লুক পেয়েছেন। তাঁরা যা ইচ্ছা তা–ই করবেন। রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে শহরবাসীকে অবরুদ্ধ করে ত্রাসের সৃষ্টি করেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষকে শহর ছেড়ে চলে যেতে হবে।

এ ব্যাপারে জামালপুর জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গতকাল রাতে দালান নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের সবাই বসে টিভি দেখছিলেন। এ সময় পুলিশ সেখান থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তাঁরা সামান্য কার্ড খেলছিলেন। পুলিশ তাঁদের অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে গেছে।

জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন  বলেন, ‘তাঁরা কোনো ইউনিয়নের নেতা-কর্মী, তাই বলে কি অপরাধ করলে গ্রেপ্তার করা যাবে না?’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রতিদিন ওই কার্যালয়ে জুয়ার আসর বসানো হয়। আসর থেকে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে। আইন সবার জন্য সমান। তাঁদের ছাড়িয়ে নিতে মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে রেখে এ ধরনের কর্মসূচি ঠিক না। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।


Print pagePDF pageEmail page
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*