Templates by BIGtheme NET
শিরোনাম
জামালপুরে দেউলিয়াবাড়ীতে সহোদর দুই বোনকে গলা কেটে হত্যা

জামালপুরে দেউলিয়াবাড়ীতে সহোদর দুই বোনকে গলা কেটে হত্যা

এহসান আলী, জামালপুর প্রতিনিধি:  জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের দেউলিয়াবাড়ি এলাকায় স্কুলছাত্রী দুই সহোদর বোনকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে নিজেদের ঘরেই এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত দুই বোনের মা তাছলিমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ ঘটনা তদন্তের জন্য সিআইডির সহযোগিতা চেয়েছেন। ইতিমধ্যে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে।
নিহতরা হলো দেউলিয়াবাড়ী গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী শামীম হোসাইনের বড় মেয়ে ভাবনা আক্তার (১৪) ও ছোট মেয়ে লুবনা আক্তার (১০)। ভাবনা আক্তার পাশের তিতপল্লা ইউনিয়নের মান্নাফিয়া রহিমা কাজেম উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার ছোটবোন লুবনা আক্তার মেষ্টা ইউনিয়নের মতিউর রহমান একাডেমিতে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মা তাছলিমা বেগম মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে ছিলেন না। তার বড় মেয়ে ভাবনা আক্তার বুধবার ভোর ছয়টার দিকে তাদের বাড়ির কাছেই তার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউল ইসলাম জিয়ার কাছে ইংরেজি প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। শিক্ষক জিয়াউল ইসলাম পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের অনুরোধে আধাঘন্টা পড়িয়েই ছুটি দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি ভাবনা আক্তার ও তার ছোট বোন লুবনা খুন হওয়ার কথা জানতে পারেন।
জানা গেছে, নিহতদের মা তাছলিমা বেগম বুধবার সকাল আটটার দিকে বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা খুলেই তার দুই মেয়েকে মেঝেতে রক্তাক্ত গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে যান। তাদের মরদেহের পাশের বিছানায় একটি রক্তমাখা কেচি পড়তে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই কেচি দিয়েই তাদেরকে গলাকেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ রক্তামাখা কেচিটি জব্দ করেছে। নিহতদের মা তাছলিমা বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি দুই মেয়েকে রেখে জমি সংক্রান্ত পারিবারিক কাজে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা গ্রামে তার বাবার বাড়িতে ছিলেন।
নৃশংস এই ঘটনা জানতে পেরে জামালপুর থেকে পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন ও জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিমুল ইসলাম পুলিশ ফোর্স নিয়ে নিহতদের বাড়ি দেউলিয়াবাড়ি গ্রামে যান। এ সময় গ্রামবাসী নৃশংস এই জোড়া খুনের ঘটনার বিচার দাবি করেন। এদিকে পুলিশ জোড়া খুনের এই ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে মনে করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের একটি দল দুপুরে ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত দুই বোনের মা তাছলিমা বেগমকে আটক করেছে।
জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন বুধবার বেলা একটার দিকে বলেছেন, শুনছি যে ঘটনার রাতে মেয়ে দুটির মা বাড়িতে ছিলেন না। তাদের বাবা মালয়েশিয়া প্রবাসী। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সিআইডি পুলিশের দলটি সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করার পর লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তদন্ত শেষ না করে এই জোড়া খুনের প্রসঙ্গে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।


Print pagePDF pageEmail page
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*