Templates by BIGtheme NET
শিরোনাম

আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিনের চূড়ান্ত ফায়সালা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেননি চেম্বার আদালত। জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্র ও দুদকের করা পৃথক দুটি আবেদন বুধবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আলাদা দুটি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী কোনো আদেশ না দিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

সোমবার জামিন আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম বলেছিলেন, তারা হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে সোমবার চেম্বার আদালতে যাবেন। এর ধারাবাহিকতায় জামিন স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার সকালে চেম্বার আদালতে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ।

এর আগে সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসনকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী চার মাসের মধ্যে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন আদালত।

হাইকোর্ট বলেছেন, পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে গেলে যে কোনো পক্ষ শুনানির জন্য আপিল উপস্থাপন করতে পারবে।

এ মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন। সে হিসেবে ৩৪ দিন পর বুধবার খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য উপস্থাপন হচ্ছে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে।

এদিকে আপিল বিভাগের বুধবারের কার্যতালিকায় এক এবং দুই নম্বরে আবেদন দুটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। সকাল ৯টায় এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগ কী আদেশ দেন, এতে তিনি কারামুক্ত হতে পারবেন কিনা তা জানতে সবাই সেদিকে তাকিয়ে আছেন।

মঙ্গলবার চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম , দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান ও খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন।

এ মামলায় জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগে চূড়ান্ত ফয়সালা হলে খালেদা জিয়া মুক্ত হতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় কাস্টডি ওয়ারেন্ট দেয়া আছে। সেই মামলায় তিনি জেলে আছেন ধরতে হবে। কাজেই ওই মামলাতে জামিন না নিয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

আদালতের শুনানিতে কি বলেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতে আমি বলেছি, খালেদা জিয়ার ১০ বছর সাজা হওয়া মর্মে নিম্ন আদালত মত দিয়েছেন। কিন্তু তাকে ৫ বছর করা হয়েছে তার বয়সের কথা বিবেচনা করে। আমি বলেছি, যেহেতু এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে নিম্ন আদালত দণ্ড কমিয়ে দিয়েছেন, সাজা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং জামিন শুনানির ক্ষেত্রে একই বিষয়গুলো পুনরায় বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই। এখন আপিল শুনানি হবে আপিল শুনানিতে যদি দেখা যায় না। ওনার বিরুদ্ধে মামলা টিকে না তাহলে উনি খালাস পাবেন। আর যদি দেখা যায় ঠিকমতোই বিচার করা হয়েছে। তাহলে উনি জেলেই থাকবেন।

অন্যদিকে চেম্বার আদালতে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল যা বলেছেন, তার সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আদালত শেষে সাংবাদিকদের বলেন, জামিন ঠেকাতে সরকার এবং দুদক একাকার হয়ে গেছে। আদালত হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত না করে তাদের আপিল দুটি বুধবার শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন। খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ কারা অন্তরালে রাখার জন্যই আপিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান, এজে মোহাম্মদ আলী, সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, ব্যারিস্টার বদরোদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান ও সগির হোসেন লিওনসহ বিপুলসংখ্যক আইনজীবী। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ৪৪টি যুক্তি দেখানো হয়। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারিক আদালতের দণ্ড স্থগিত চাওয়া হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেয়া জরিমানার আদেশও স্থগিত করা হয়।এছাড়া আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য রাখেন আদালত। আদেশে এ মামলায় বিচারিক আদালতের নথি তলব করে ১৫ দিনের মধ্যে তা হাইকোর্টে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষে আদালত বলেছিলেন বিচারিক আদালতের নথি আসার পর আদেশ দেবেন। গত বৃহস্পতিবার আদেশ অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে নথি আসার সময়সীমা শেষ হয়েছে বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালত জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য গত রোববার দিন ধার্য করেছিলেন। সেদিন বিচারিক আদালতের নথি না আসায় খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশের দিন পিছিয়ে সোমবার দিন ধার্য করেন। যদিও ওইদিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে লোয়ার কোর্ট রেকর্ড (এলসিআর) বিচারিক আদালত থেকে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

সোমবার খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। আদালত আদেশে বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স,শারীরিক অসুস্থতা, সাজার পরিমাণ, নিয়মিত বিচারিক আদালতে হাজিরা, এবং মামলার পেপারবুক এখনো প্রস্তুত না হওয়ায় জামিন মঞ্জুর করা হলো। একই সঙ্গে আগামী চার মাসের মধ্যে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন আদালত।

হাইকোর্ট বলেন, পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে গেলে যে কোনো পক্ষ শুনানির জন্য আপিল উপস্থাপন করতে পারবে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এ অর্থদণ্ডের টাকা প্রত্যেককে সমান অঙ্কে প্রদান করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ের পর থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর ৩২টি যুক্তি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন দেয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স ৭৩ বছর। তিনি শারীরিকভাবে বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তিনি ৩০ বছর ধরে গেঁটেবাত, ২০ বছর ধরে ডায়াবেটিস, ১০ বছর ধরে উচ্চরক্তচাপ ও রক্তে আয়রন ঘাটতিতে ভুগছেন।


Print pagePDF pageEmail page
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*