Templates by BIGtheme NET
শিরোনাম

বগুড়া-৫ আসনের বিজয় ধরে রাখতে ব্যস্ত ক্ষমতাসীন আ’লীগ ॥ পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি

বাদশা আলম, শেরপুর(বগুড়া): দেশের মানুষে মাঝে এখন একটা আলোচনা জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের শেষ ভাগে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মর্মে নির্বাচন কমিশনারও বেশ গা-ঝাঁড়া দিয়ে উঠেছে। সেই লক্ষ্যে সব দলের অংশগ্রহণে ব্যাপক প্রতিযোগিতামূলক হবে এমনটা ধরে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে গেছে রাজনৈতিক দলগুলো। নিজ নিজ কৌশলে ঘর গোছানোর পাশাপাশি জোর প্রস্তুতি চলছে ভোটযুদ্ধের। ভোটারদের কাছে টানতে নেওয়া হচ্ছে নানা কর্মসূচি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও এগিয়ে চলছে।
ভোটের চিন্তা মাথায় রেখে মিত্র বাড়ানোর পথে হাঁটছে সব দলই। নানা কারণে দীর্ঘদিন দূরে থাকা নেতাদের দলে টানা হচ্ছে। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলে জনপ্রিয়তা অন্যতম মাপকাঠি-হাইকমান্ডের কাছ থেকে এমন বক্তব্য আসায় নির্বাচনী প্রচারণায় মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ অন্যান্যদের দলীয় এক ডজনের বেশী নেতারা রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের পর ২৯ জানুয়ারি সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। এই হিসেবে ২৯ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের ১২৩(৩) ধারা অনুসারেও মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা রয়েছে।
বগুড়ার ৭টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দুটি আসন দখল করে রেখেছে। বাকী আসন অন্যান্য দলগুলো। ক্ষমতাসীন দলের আসনের মধ্যে এবারও বগুড়া-৫ শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী আসনের দখল রাখতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। সেই লক্ষ্যে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেরপুর-ধুনট আসনের ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সম্ভব্য প্রার্থীরা এলাকায় ব্যাপক প্রচারনা চালিয়ে আসছে। এদিকে বিএনপি তাদের হারানো আসন পুনরুদ্ধারে বেশ কৌশলের সাথে প্রচারণার চালিয়ে যাচ্ছে। ছিনিয়ে নিতে চায় ক্ষমতাসীন দলেও কাছে হারানো আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ দু’উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ, হাট-বাজারের, চা-স্টলসহ নানাবিধ প্রতিষ্ঠানে এখন শুধুই নির্বাচন তথা কে পাচ্ছেন আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য দল মনোনীত প্রার্থীতা। এ আলোচনাই শুধু এখনকেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চলছে সমর্থিত দলের সম্ভাব্য প্রার্থীতার পক্ষে প্রচারণা।
বগুড়া- ৫ ধুনট ও শেরপুর উপজেলা মিলে এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিক পেতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনু, সাবেক পুলিশ সুপার ও বর্তমান এমপি আলহাজ্ব হাবিবর রহমান, কেন্দ্রীয় মহিলালীগ নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস রূপা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় হাই-কমান্ড নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপে ব্যাস্ত রয়েছেন বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। তবে ক্ষমতাসীন আ:লীগ তাদের অর্জিত এ আসন ধরে রাখতে ব্যস্ত রয়েছেন বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে।
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি)’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এ আসনে বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও শেরপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব জানে আলম খোকা, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব কেএম মাহবুবুর রহমান হারেজ, শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু, জাতীয়তাবাদি মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম শফিউজ্জামান খোকন ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন বিএনপি’র প্রতিক ধানের শীষ পেতে দলীয় হাই-কমান্ডের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। তবে বিএনপি’র সংস্কারপন্থী হওয়ায় দল থেকে ছিটকে পড়া সাবেক এমপি আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবার দলীয় মনোনয়ন পেতে অত্যন্ত বিচক্ষনতার সাথে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় হাই-কমান্ডেও যোগাযোগ রাখছেন বলে একটি সুত্রে জানিয়েছেন। তাছাড়া হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি’র স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে এ আসনে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড না থাকলেও এ আসনে বর্তমান সংসদে বিরোধীদলীয় জাতীয় পার্টির প্রার্থী কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক এমপি এ্যাডঃ শাহজাহান আলী তালুকদার ও জাপা নেতা সাবেক জেলা ও দায়রা জজ তাজ মোহাম্মাদ, বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য ওমর ফারুক দলীয় মনোনয়ন নিতে দলীয় চেয়ারম্যানসহ হাই-কমান্ডের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে অযোগ্য হলেও জামায়াত নেতা শেরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দবিবুর রহমান প্রার্থী হতে পারেন। ইতিমধ্যেই তিনিও এ দু’উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পোস্টার-ফেস্টুন লাগিয়ে প্রচারনা শুরু করেছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীতা বাছাইয়ে, জন বিচ্ছিন্ন ও হাইব্রীড নেতাদের বাদ দিয়ে তৃণমুল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতামতের ভিত্তিতেই যেন মনোনীত হয়। স্ব-স্ব দলীয় হাই-কমান্ডের কাছে এমনটাই প্রতাশ্যা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।


Print pagePDF pageEmail page
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*