Templates by BIGtheme NET
শিরোনাম

অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খান, তার স্ত্রীক এবং ছেলেকে দুদকে তলব

অর্থ আত্মসাৎ ও দেশের বাইরে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে সিটিসেলের সাবেক চেয়ারম্যান এম মোর্শেদ খান, তার স্ত্রী নাসরিন খান ও ছেলে ফয়সাল খানকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দুদক থেকে পাঠানো নোটিশে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান ও তার স্ত্রীকে ১৮ সেপ্টেম্বর এবং ছেলেকে ২০ সেপ্টেম্বর দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। নোটিশে স্বাক্ষর করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামসুল আলম ও মির্জা জাহিদুল আলম।

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৩৮৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিটিসেলের চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৮ জুন বনানী থানায় মামলা করেছিল দুদক। ওই মামলায় সিটিসেলের সিইও মেহবুব খানকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মোর্শেদ খান দম্পতি জামিন লাভ করে। এ অবস্থায় মামলাটির তদন্তকাজ শেষ করতে তাদের বক্তব্য নিতে চায় দুদক। এরই অংশ হিসেবে তাদের দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

মামলায় মোর্শেদ খান ও তার স্ত্রী নাসরিন খান ছাড়া সিটিসেলের ভাইস চেয়ারম্যান আসগর চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহবুব চৌধুরী, এবি ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক) মসিউর রহমান চৌধুরী ও ব্যাংকটির সাবেক দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার আহমেদ চৌধুরী ও এম ফজলুর রহমানকেও আসামি করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হল, তারা সিটিসেলের নামে ৩৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করার জন্য এবি ব্যাংক মহাখালী শাখায় আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই না করেই সিটিসেলের নামে কোনো জামানত ছাড়াই ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করে এবি ব্যাংক। পরে এ ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে আটটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সিটিসেলের ব্যবসা সম্প্রসারণের নামে ৩৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নেয়া হয়। যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ না করায় সুদসহ এ অর্থ দাঁড়ায় ৩৮৩ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার ৩৬৩ টাকা। ব্যাংক গ্যারান্টির শর্তানুযায়ী এবি ব্যাংক এ অর্থ পরিশোধ করে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া সেলফোন অপারেটর সিটিসেল লাইসেন্স পায় ১৯৮৯ সালে। সে সময় বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (বিটিএল) নামে লাইসেন্স দেয়া হয়। ১৯৯৩ সালে প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (পিবিটিএল) প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা কিনে সিটিসেল নামে কার্যক্রম শুরু করে। পিবিটিএলের বেশির ভাগ মালিকানায় রয়েছেন মোর্শেদ খান। সিটিসেলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে মোর্শেদ খানের মালিকানাধীন প্যাসিফিক মটরস ও ফারইস্ট টেলিকম। ২০০৪ সালে এতে বিনিয়োগ করে সিঙ্গাপুরের সিংটেল। পরে সিংটেল এতে বিনিয়োগ বন্ধ করে দেয়।

অন্যদিকে, চারটি হিসাবের মাধ্যমে দেশের বাইরে ৩২১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ তদন্তে মোর্শেদ খানের ছেলে ফয়সাল খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর তলব করা হয়েছে। ওই অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মামলা করেছিল দুদক। মামলায় মোর্শেদ খান ও তার স্ত্রীকেও আসামি করা হয়। দুদক পরবর্তীতে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানা গেছে। মোর্শেদ খান ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদক মামলাটি করেছিল রমনা থানায়।

মামলায় আসামিরা তিন কোটি ৯৫ লাখ ৬২ হাজার ৫৪০ মার্কিন ডলার এবং এক কোটি ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৩ হংকং ডলার মিলিয়ে মোট ৩২১ কোটি সাত লাখ ৫৩ হাজার ৩৫৯ টাকা পাচার করেছেন উলে­খ করা হয়। এজাহার অনুযায়ী, মোরশেদ খানের প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট টেলিকম লিমিটেডের মাধ্যমে মোট ১১টি বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে মোট ৩২১ কোটি সাত লাখ ৫৩ হাজার ৩৫৯ টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছেন।


Print pagePDF pageEmail page
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*