Templates by BIGtheme NET
শিরোনাম

আগামীতে ক্ষমতায় এলে দেশের সব প্রশাসনিক বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল জনগণের দোর গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া। তাতে আমরা অনেকটা সক্ষম হয়েছি। আরেকবার ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশের জনগণকে আরও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা উপহার দিতে পারব।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় সেভাবে কাজ করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ যেন স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্য মাথায় রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে গরীব মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং ৩০ প্রকার ওষুধ পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে যাতে আরও বেশি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে ওঠে সে জন্য হাসপাতালের ও চিকিৎসার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দিয়েছি। আমরা চাই চিকিৎসা ব্যবস্থাটা যেন একটা শিল্প হিসেবে গড়ে উঠে। দেশের প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোতে যেন ঠিকমত মানসম্পন্ন পড়াশোনা হয় সে জন্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তদারকি করবে।

তিনি আশা করেছেন, তার দল আগামীতে ক্ষমতায় এলে দেশের সব প্রশাসনিক বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।

বিএসএমএমইউ-এর ভিসি ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়,  দেশের প্রথম সেন্ট্রালবেইজড চিকিৎসা সেবা চালু হবে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটিতে। ১১ তলা হাসপাতাল ভবনটিতে থাকবে মোট ১০০০ শয্যা।

নবনির্মিত হাসপাতালের প্রথম ফেজে থাকবে ইমার্জেন্সি মেডিকেল কেয়ার সেন্টার, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, কার্ডিয়াক অ্যান্ড সেলুলার ভাস্কুলার সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেন্টার, কিডনি ডিজিজেস সেন্টার।

দ্বিতীয় ফেজে থাকবে অপথ্যালমোলজি সেন্টার, ডেন্ট্রিস্টি, ডার্মাটোলজি, মেডিসিন, সার্জারি বিভাগ সমূহ।

হাসপাতালটি হবে রোগীবান্ধব একটি সবুজ হাসপাতাল। এ হাসপাতাল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ মানের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করবে।

হাসপাতালটিতে প্রত্যেকটি সেন্টারের জন্য নির্দিষ্ট বহির্বিভাগ চালু থাকবে। ইমার্জেন্সি মেডিকেল কেয়ার সেন্টারটি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা দিতে সক্ষম হবে। ভিআইপি ও ভিভিআইপি কেবিন থাকবে হাসপাতালটিতে।

হাসপাতালটির বর্হিবিভাগে প্রতিদিন  ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার রোগীকে সেবা  দেয়া যাবে। থাকবে অত্যাধুনিক সার্জারিসহ  লিভার ও কিডনি ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট সুবিধা।

হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে প্রতিবছর ২২ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে পারবেন। এতে দেশের বাইরে সাধারণত চিকিৎসার জন্য যে ৩০০-৪০০ কোটি টাকা চলে যায়, তা সাশ্রয় হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রথম ফেজে দুইটি বেইজমেন্টসহ ৯ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় ফেজে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরবর্তী দুই তলা নির্মাণ করা হবে।


Print pagePDF pageEmail page
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*