Templates by BIGtheme NET
শিরোনাম

কোটা কোনো চিরস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা পদ্ধতি থাকা উচিত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেছেন, কোটা কোনো চিরস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা পদ্ধতি থাকা উচিত। সম্প্রতি কোটা বাতিলের আগেও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত ১% কোটাও যথাযথভাবে পূরণ করা হয়নি। তাই প্রয়োজনীয় নিয়ম করে সাময়িকভাবে কোটাব্যবস্থা আরও কিছুদিন রাখা যেতে পারে। অর্থাৎ এটা আগামী ১০-১৫ বছরের জন্যও হতে পারে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ এবং অনুকূল অবকাঠামো বিবেচনায় নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের শিক্ষার সুযোগ ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ নিয়ে ছায়া সংসদের আদলে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. আকবর আলী খান এসব কথা বলেন।

প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্রাচার্য, গ্রাম বিকাশ সহায়কা বিকাশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মাসুদা বানু ফারুক রত্না।

বিতর্ক অনুষ্ঠানে সরকারি দল হিসেবে ইডেন কলেজ ও বিরোধী দল হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিতর্ক শেষে উভয় দলকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এসএম মোর্শেদ, সাংবাদিক ঝুমুর বারী ও অধ্যাপক ড. মু. শাহ আলম চৌধুরী।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, চাকরিতে কোটার প্রয়োজন আছে। তবে একই সঙ্গে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণের পাশাপাশি সমাজকেও প্রতিবন্ধীবান্ধব হতে হবে। যুবকদের মধ্যে একটি বড় অংশ দৃষ্টি ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, কোটা মানে এ নয় যে, যোগ্যতার অভাব। এটা তয়াও নয়। এটা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি অধিকার।

আয়োজক সংগঠন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রতিবন্ধীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় আমরা মুখে যত কথাই বলি না কেন বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন। সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩ থেকে ৫% কোটা বরাদ্দ, জাতীয় সংসদে কমপক্ষে ২টি সংরক্ষিত আসন, প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সময় বৃদ্ধি, চাকরিতে আবেদনের বয়স বাড়ানো, প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করাসহ তাদের সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, পরিচালক আনিসাতুল ফাতেমা ইউসুফ, যুগ্ম পরিচালক অভ্র ভট্টাচার্য এবং এনডিএফ এর চেয়ারম্যান ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন।


Print pagePDF pageEmail page
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*