শিরোনাম

বান্দরবানে আইসিটি ডিভিশনের প্রকল্পে পার্বত্য জেলা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ

বান্দরবানে আইসিটি ডিভিশনের প্রকল্পে জেলা প্রশাসনের সহায়তা থাকলেও স্থানীয়দের আন্তরিকতার অভাবে দরিদ্র সীমার নীচে থাকা উচ্চ শিক্ষিত বেকাররা মোবাইল গেমস্ এন্ড এপ্লিকেশন তৈরীতে বাধা পড়েছে।

গত ৩ জুন ২০২১ ইং তারিখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের স্মারক নং-৫৬.০০.০০০০.০৪১.০৭. ০৩৪.১৯-৪৮৬৫ পত্রে দেশের সকল জেলা প্রশাসককে নির্বাচিত ৪টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহার সহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত ছিল।

বান্দরবান জেলা কো-অর্ডিনেটর এর আবেদনের প্রেক্ষিতে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ স্মারক নং-০৫.৪২.০৩০০.২০৮.২৫.০০২.২১.৭৪ তাং-১৩ জুন ২০২১ মূলে প্রধান শিক্ষক, বান্দরবান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এবং স্মারক নং-০৫.৪২.০৩০০.২০৮.৯৯.০০১.২১.১০৫ তাং-১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ মূলে চেয়ারম্যান, জাতীয় মহিলা সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহার করতে দেয়ার অনুরোধ করা হলেও মানা হয়নি তা।

এদিকে প্রশিক্ষণার্থী সহ প্রশিক্ষক, কো-অর্ডিনেটর সকলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সদিচ্ছার আশা প্রকাশ করে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় চাইলেই আই সিটি ডিভিশনের সাথে সমন্বয় করে পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন কোন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা বিদ্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করা হয়।

তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোবাইল গেমস্ এন্ড এ্যাপস ডেভেলপমেন্ট এর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বঞ্চিত হচ্ছে বান্দরবানের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারকারীরা।

ক্লাস শুরু হলে আগ্রহী প্রশিক্ষণার্থীদের ক্লাসে অংশগ্রহণ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেক প্রশিক্ষণার্থী লজ্জায় ড্রপআউট হতে দেখা গেছে। কিন্তু ল্যাপটপের অভাবে ক্লাস করতে না পারায় একটি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে বান্দরবানবাসী।

উক্ত প্রশিক্ষণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের কম্পিউটার ল্যাব অথবা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ল্যাব ব্যবহার করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা স্বত্ত্বেও তা মানা হয়নি যা খুবই দুঃখজনক।

প্রশাসনিক জটিলতা যেমন তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে ৪টি আইটি ফার্মের ঠিকদারী প্রতিষ্ঠানকে এ প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজটি প্রদান করা হয়। আইটি কোম্পানীকে বলা হলো জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান সমূহের কম্পিউটার ল্যাব অনুমতি চেয়ে নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
যথাযথ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতিও দেয়া হয়। নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান প্রধানও সম্মত হলেন ল্যাব ব্যবহার করতে দেয়ার। প্রতিষ্ঠানের বিধিমালা অনুযায়ী ল্যাব ব্যবহার করার অনুমতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, পরিদফতর সমূহে অবগত করা সহ অনুমতির বিষয় রয়েছে। ফের পরল বিপাকে। এবার শিক্ষা, শ্রম, যুব, মহিলা এসব অধিদপ্তর সমূহ কোন চিঠি পাইনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ হতে। যদি তথ্য মন্ত্রণালয় অথবা আইসিটি ডিভিশন থেকে এসব মন্ত্রণালয়ে কিংবা অধিদপ্তর/পরিদফতর সমূহে স্মারক মূলে চিঠি পাঠানো হত তাহলে এমনটা সংকটে পরতা না বান্দরবানবাসী।

তথ্য প্রযুক্তিতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে যেমনটাই সারা বিশ্ব তেমনি উন্নয়নে এগিয়ে রয়েছে বান্দরবান সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম।
জাতীয় রাজস্ব খাতে বৈদেশিক মুদ্রা/রেমিট্যান্স যোগে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ জেলায় পরিণত হতে পারে বান্দরবান সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম বলে মনে করেন এ প্রতিবেদক।

কয়েক বছর পূর্বে অন্যান্য জেলার আগেই বান্দরবানে বিভিন্ন কোর্সে এ জেলার উচ্চ শিক্ষিত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে লার্নিং আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম করা হলেও পিছিয়ে রয়েছে বান্দরবান। পরেই অন্যান্য জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কোর্স সমাপ্ত করে এগিয়ে যাচ্ছে অন্যান্য জেলা এমনটাই চোখে পড়েছে এ প্রতিবেদকের।

বিগত ২০১৩-১৪ সালে বান্দরবানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আইসিটি শিক্ষায় দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে জাবা/এইচটিএমএল/মাইক্রোমিডিয়া ডি-রিমোভার এবং ২০১৭-১৮ সালে ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েভ পেজ ডিজাইন এর উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং/আউটসোর্সিং কাজে নিয়োজিত থাকলেও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে উৎসাহ হারিয়েছেন এ কাজে।

এ প্রতিবেদক পার্বত্য জেলার সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা সরকারের পক্ষে খুবই সহজ বলে মনে করেন। ট্রিগারে চাপ দিয়ে সন্ত্রাসীদের দমন করার বিকল্প উপায় নিয়ে ভাবছেন এ প্রতিবেদক। সন্ত্রাসীরা যাতে তাদের পরবর্তী কার্যক্রমে পরবর্তী প্রজন্মদের টার্গেট করে তাদের দলে না ভিড়াতে পারে সেজন্য সরকারকে এখনই পাহাড়ে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার আহবান জানান। আত্মকর্মসংস্থানের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন অনেকে।

যতই বাধা আসুক না কেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার অংশীদার হবে ফ্রিল্যান্সারাই। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাতে দেশে আগামীর বাংলাদেশ হবে আইসিটি শিল্প বিপ্লবের র‌্যাংকিংয়ে নাম্বার ওয়ান।
এ প্রতিবেদক তার লেখনির মাধ্যমে “ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা” এনটাই স্বপ্ন দেখছেন।

প্রসঙ্গত: ১৩ হাজার জন প্রফেশনাল আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ পেলেও আরো ৪০ হাজার জন আউটসোসিং প্রশিক্ষণ প্রদানের কথা ছিল ২০১৮ সালে। কার্যত কোর্স শুরু হলেও করোনার কারণে কিছুটা স্থগিত ছিল। অবশ্যই লকডাউনের পর সরকার অনলাইন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। এজন্য এ প্রতিবেদক সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পর তদারক করার আহবান জানিয়েছেন।


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language