শিরোনাম

মামলা অভিযোগের পরও মনের খুশিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে আসামীরা

শত অভিযোগের পরও আটক হয়ে কারাবাস হতে শোনা যাই নি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কারো। ওরা এত ক্ষমতাধর। প্রশাসন এদের আটক করতে সাহস পায় না।

বান্দরবান সদরে আইনজীবী দম্পতির বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে অবশেষে মামলা দায়ের হয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২০ জুলাই (মঙ্গলবার) সকালে অভিযুক্ত দম্পতি কোয়ান্টামের অর্গানিয়ার লিগ্যাল এ্যাডভাইজার এ্যাডভোকেট ফয়সাল আহম্মেদ ও এ্যাডভোকেট সারাহ সুদীপা ইউনুসের বাসা থেকে পালিয়ে যায় ভুক্তভোগী শিশুটি। নয় বছর বয়সী ওই শিশুটির বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলায় লামার মুখ এর বরিশাল পাড়ায়।

সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, সেখানে দেখা যায় একজন ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করছে এবং সে তার উপর নির্যাতনের বিভিন্ন বর্ণনা দেয় এবং তাকে নির্যাতনের জন্য তার গৃহকর্তী এ্যাডভোকেট ফয়সাল আহম্মেদ ও এ্যাডভোকেট, মানবাধিকার নেত্রী সারাহ সুদীপা ইউনুসের নাম বলতে থাকে। ২ মিনিট ৮ সেকেন্ডের এই ভিডিওটিতে সে নির্যাতন সইতে না পেরে বাসা থেকে পালিয়ে আসার বর্ণনা দেয় এবং তাকে জ্বলন্ত মশার কয়েল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়ে দেয়া ও হাতে কেটে দেওয়ার নির্মম কাহিনী বর্ণনা করে।

সুত্রে জানা যায়, শিশুটির মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আর একটি বিয়ে করলে সে পুরোপুরি এতিম হয়ে যায় এবং পরে তার এক প্রতিবেশি তাকে বান্দরবান সদরের এক এই আইনজীবিদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য দিয়ে দেয়। ৮ মাস ধরে সে বাসায় কাজ করলে ও পরে সে গৃহকৃতীর নির্যাতন সইতে না পেরে পালিয়ে যায়।

বান্দরবানের ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুল হাসান বাচ্চু জানান, শিশুটি পালিয়ে আমার এলাকায় চলে আসলে আমার এলাকার এক ব্যক্তি বিষয়টি আমাকে অবহিত করে। পরে আমি শিশু গৃহকর্মীটিকে ও অভিযুক্ত সারাহ সুদীপা ইউনুসের স্বামী ফয়সাল আহম্মেদকে নিয়ে বৈঠক করি এবং বৈঠকে শিশু গৃহকর্মীটি নির্যাতনের বর্ণনা দেয়,পরে সে আর সারাহ সুদীপা ইউনুসের বাসায় যেতে না চাইলে আমি শিশুটিকে রওশন আরা নামে এক প্রতিবেশির কাছে হস্তান্তর করি।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) রওশন আরা নামে ওই প্রতিবেশি বান্দরবান সদর থানায় ভিকটিমের পক্ষ হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ শিশুটি উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ওসি মো.সোহাগ রানা বলেন,এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে বান্দরবান সদর থানায় সারাহ সুদীপা ইউনুস (৪০) ও তার স্বামী ফয়সাল আহম্মেদ ওরফে (ফয়সাল আজিজ) (৪৫) এর নামে শিশু আইন, ২০১৩ এর ৭০/৮০(১) এর ধারায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ওসি আরো জানান, এই বিষয়ে তদন্ত করে পরর্বতী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে শিশু নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে সারাহ সুদীপা ইউনুস ও তার স্বামী ফয়সাল আহম্মেদ নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন।

প্রসঙ্গত,সারাহ সুদীপা ইউনুস, ফয়সাল আহম্মেদ’কে বিয়ে করার পর ফয়সাল আহম্মেদ বান্দরবানে এসে কোয়ান্টামের দায়িত্ব গ্রহন করেন। অন্যদিকে প্রয়াত রাজা কেএস প্রু এর কন্যা মানবাধিকার নেত্রী ডনাই প্রু নেলীর সহযোগিতা ও শেল্টারে রাতারাতি বান্দরবানের মানবাধিকার নেত্রী বনে যান সারাহ সুদীপা ইউনুস। একের পর এক অপরাধ করলেও এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। সারাহ সুদীপা ইউনুস ও স্বামী ফয়সাল আহম্মেদ এর পূর্ব পুরুষ বান্দরবান জেলার বাসিন্দা না হলেও ফয়সাল আহম্মেদ জেলার রাজবিলা ইউনিয়নের একজনকে বাবা সাজিয়ে জাল কাগজ পত্রের মাধ্যমে বান্দরবানের একের পর এক ভূমি কিনে বান্দরবানের নাগরিক বনে যান। বান্দরবানের সুয়ালকসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্যজনের একাধিক ভূমি দখলের অভিযোগ আছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে।


Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language