শিরোনাম

সরকারকে বিপাকে ফেলতে বান্দরবানের যুবদলের নেতাকে অপহরণ করলেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিথুন দাস

শহীদুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
গত ১২ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় অপহরণ হলেন বান্দরবানের যুবদলের নেতা জিয়া। তাকে অপহরণ করেছিলেন বান্দরবান জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিথুন দাস। তার ভাষ্যমতে সহযোগিতায় সংগীয় বিজিবি সদস্য রোয়াংছড়ি বাসষ্টেশন এলাকার রনি দাশ ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে ছুটিতে থাকাবস্থা বিজিবি সদস্য রনি দাশ প্রকৃত পক্ষে কোন ক্যাম্পে কর্মরত এখনও স্পষ্ট জানা যায় নি। ভিকটিমকে হাত পা বাধা অবস্থায় মিথুনের মা শচী রানী দাশ শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত ভাত পানি কিছু দেয় নাই বলে জানা যায়।
আসামীর ভাষ্যমতে জানা যায়, পাওনা ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করতেই এই অপহরণ করেছে বলে জানায়। তবে পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়ে ভিকটিম এর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত অভিযুুক্ত ছাত্রনেতা কোথাও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা সামাজিক/রাজনৈতিক কোন নেতার নিকট অভিযোগ করেন নাই।
পরে শনিবার ১৩ অক্টোবর রাতে ভিকটিমের পরিবারের সহায়তায় নিউ গুলশানস্থ পাহাড়ের ভিতরে টিনশেড একটি ঘর হতে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় মুক্তিপণের টাকা সহ উদ্ধার করা হয় ভিকটিমকে। যথারীতি বিভিন্ন মহলের চাপে ভিকটিমকে বিভিন্ন মামলার অজ্ঞাত আসামী বানানোর ভয় দেখিয়ে অপহরণকারীর বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা রুজু না করে রবিবার ১৪ অক্টোবর রাতে ছেড়ে দেয় পুলিশ প্রশাসন।
ভিকটিম যুবনেতা জিয়ার ভাষ্যমতে বুঝা যায়, বান্দরবানের রাজনৈতিক সম্প্রীতিকে অস্থিতিশীল করতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে অপহরণ করে গুম করার চেষ্টা চালিয়েও শেষমেষ ব্যর্থ হয়। সামনে নির্বাচনকে সামনে রেখে মিথুন পাওনা উদ্ধারে নিজ স্বার্থ সিদ্ধি জিইয়ে রেখে সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিপাকে ফেলতে তাকে বলির পাঠা বানানোয় এসবের কারসাজি বলে মনে করেন।
এদিকে বান্দরবান জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফুল আমিন ফরহাদ এর সাথে সংবাদকর্মী যোগাযোগ করলে তিনি জানান, অচিরেই তার অপকর্মের বিষয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে অবহিত করা হবে। বহিস্কার করা হবে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এর সিদ্ধান্তের বাইরে এবং জেলা কমিটির বৈঠক ব্যতীত একক কর্তৃত্বে বহিস্কার করার এখতিয়ার না থাকায়, এখনই বহিস্কার করা যাচ্ছে না বলে জানান।
এদিকে অপহরণকারী থানা হাজত থেকে ছাড়া পেয়ে নিজ ঘরে অবস্থান করছে। ভিকটিম ন্যায় বিচার না পেয়ে শংকিত। অপহরনের পর ভিকটিম ৩০ হাজার টাকা না দিলে তাকে ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকি প্রদান করেন পুলিশের ওসি পরিচয় দানকারী বিজিবি সদস্য রনি দাশ।
এলাকাবাসী জানান, প্রকৃত পক্ষে গুম সন্ত্রাস গুলো এভাবে হয়ে থাকে, ঘটনা যখন ঘটে যায়, তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয় অস্থিরতা। এ ধরনের অপরাধীর শাস্তি কামনা করেন সকলে। অপহরণকারীর ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে বান্দরবান জেলা আদালতে ইয়াবা মাদকের মামলা রুজু আছে প্রতিনিয়ত হাজিরা দেন বলে জানা যায়।

Print pagePDF pageEmail page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

See In Your Language